পঞ্চগড়ে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ

বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চর তিস্তাপাড়া খয়ের বাগান এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে অর্ধশত নিজস্ব বাহিনীর লোকজন সহ দা, কুড়াল, শাবল, লাঠিসোটা সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিবেশি কৃষক মোশারফ হোসেনের বাড়িতে হামলা করেন।
এসময় মোশারফ হোসেনের মাথায় আঘাত করে বেধরক মারধর করা হয় পরিবারের অন্তত ৬ সদস্যকে। মোটরসাইকেল ভাংচুর সহ গবাদি পশুর উপরেও হামলা করা হয়েছে। এসময় তার বাড়ির পাশের তিন শতাধিক কলা গাছ কেটে, উপরে ফেলা হয়েছে অন্তত দুই শতাধিক চা গাছ। এতে ক্ষয়ক্ষতি সহ অন্তত ৫ লাখ টাকার ফসল।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া শুরু করলে আবারো হামলা করা হয়। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন গ্রামবাসীও। বর্তমানে আহতরা দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা যায়, উপজেলার চর তিস্তাপাড়া খয়ের বাগান এলাকায় কৃষক মোশারফ হোসেনের পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে দুই বিঘা জমির নিজের দাবি করে গত এক মাস আগে বিরোধ বাধে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার সহ ৮ জনের। পরে গত ৬ সেপ্টেম্বর নিজস্ব বাহিনী নিয়ে চা বাগানের পাতা কেটে নিয়ে কেটে নিয়ে যান। ধাওয়া করেন কৃষক মোশারফ হোসেনের পরিবারের লোকজনকে। পরে গত ৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জব্বার তার বাহিনীর লোকজন আবারো মোশারফের বাড়িতে হামলা করেন।
এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভূক্তভোগীর পরিবার। এদিকে, শুক্রবার রাতে উপজেলা যুবদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আব্দুল জব্বারকে দলীয় পদ স্থগিত করে তাকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পরে রবিবার ভূক্তভোগীদের একটি মামলায় জব্বারকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জব্বার নিজস্ব বাহিনী তৈরী করেছেন। বাহিনী নিয়ে জব্বার অন্যর জমি দখল সহ নানা অপকর্ম করে বেড়ান।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী আসমা আক্তার বলেন, আমরা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছি। কিন্তু দুই বছর ধরে ওই জমির একই দাগের অন্যত্র দুই বিঘা কিনেছে জব্বার সহ অনেকে। তারা জমি পাবে কিনা জানিনা। তারা যেখানে জমি কিনেছে সেখানে যাক। আমাদের জমিতে আসছে কেন। তারা আমাদের জমির চা গাছ, কলা গাছ কেটে ফেলেছে। তাদের অত্যাচারে আমরা থাকতে পারছিনা। আমাদের বাড়িঘরে হামলা করেছে তারা। আমরা ভয়ে বাসায় যেতে পারছিনা এখনো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, যুবদল নেতা জব্বারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যায় না। বললে এখনি তাকে ধরে নিয়ে যাবে। তার উপরে হামলা করা হবে। আমরা তার অপকর্মের বিচার চাই।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ওই জমি নিজেদের দাবি করেছেন যুবদল নেতা জব্বার ও তার বাহিনীর লোকজন। দাবি পুলিশ তাদের উপর হামলা করে মারধর করেছেন। তাদেরও আহত হয়েছেন অন্তত ৪ জন।
যুবদলের সদ্য পদ স্থগিত হওয়া নেতা আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা ওই জমির মূল মালিক। আমরা কারো জমি দখল করতে যাইনি। আমাদের পুলিশ মারধর করেছে। আমরা আমাদের জমিতে কাজ করছিলাম।
তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা সমাধানে বসলেও কোন পক্ষই তা মানেনি এমনটাই বলছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোয়েল রানা।
তিনি বলেন, আমরাও বিরক্ত এ ঘটনায়। তবে মামলার এক আসামীকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।