রুহিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাট-বল হাতে তরুণরা

রুহিয়া আবারও প্রমাণ করলো। তরুণ সমাজ এখনো হারিয়ে যায়নি। হারায়নি স্বপ্ন, হারায়নি সাহস।
আরএইসএস আয়োজিত ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫–এর উদ্বোধনী দিনেই দেখা গেল তার প্রমাণ।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টায় রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে জমে উঠেছিল ক্রীড়াপ্রেমী তরুণদের এক বিশাল মিলনমেলা।
টুর্নামেন্টের প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ঘোষিত হলেও উপস্থিত থাকতে পারেননি রুহিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন।
তবে উদ্বোধন ঘোষণা করেন রুহিয়া থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক মানিক।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের।
উদ্বোধনী মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন, মকবুল হোসেন ও আবদুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, রুহিয়া থানা বিএনপি।
রুহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, গোলাম রাব্বানী, মুজামণ্ডল হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক রাবেয়া সুলতানা।
রুহিয়া থানা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক রশিদুল ইসলাম, সহ- ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
আব্দুল মালেক মানিক বলেন “এই টুর্নামেন্ট শুধু খেলার জন্য নয়, এটি তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে রাখার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। যুবসমাজ যখন ব্যাট-বল হাতে মাঠে থাকবে, তখন মাদকের ছায়াও তাদের স্পর্শ করতে পারবে না।”
ওসি এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, “আমরা চাই, রুহিয়ায় যেন নিয়মিত এমন আয়োজনে মুখর থাকে মাঠ। পুলিশ প্রশাসন ক্রীড়াঙ্গনের পাশে আছে এবং আগামীতেও থাকবে।”
এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিরাজ করছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ নয়, সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, এমনকি শিশুরাও ছিল আনন্দে মাতোয়ারা।
একজন প্রবীণ ক্রীড়াপ্রেমী বলেন, “অনেকদিন পর আমাদের ছেলেরা আবার মাঠে ফিরছে। রাজনীতি, মাদক, মোবাইল এসবের বাইরে এসে আবার খেলাধুলায় মন দিচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
আয়োজক সংগঠন আরএইসএস (RHS Cricket Planet) জানায়, “এই টুর্নামেন্ট শুধুই প্রতিযোগিতা নয়, বরং যুবসমাজকে এক সুতোয় গাঁথার প্রয়াস।”
আয়োজকরা জানান, বিভিন্ন এলাকার তরুণ ক্রিকেট দলগুলো এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে এবং প্রতিটি ম্যাচের জন্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা দল প্রস্তুত রয়েছে।
এমন ক্রীড়া আয়োজন কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি সামাজিক ঐক্য, যুবশক্তির পুনর্জাগরণ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
খেলাধুলা কেবল প্রতিযোগিতা নয়, সমাজ গঠনেরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।