জনগণের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা চাই: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হলো ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবস।
এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় শহরে পৃথক শোক র্যালি বের করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠন। র্যালি শেষে তারা শহিদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে বেলা সাড়ে ১১টায় ছোট যুমনা নদীর তীরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎবন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, “ফুলবাড়ীর আন্দোলন শুধু সম্পদ রক্ষার জন্য নয়, মানুষের জমি, ঘরবাড়ি, কৃষি, পানি ও জীবিকা রক্ষার আন্দোলন ছিল। এই আন্দোলন উন্নয়নের নতুন ধারণা দিয়েছে। যে প্রকল্প মানুষ ও প্রকৃতিকে ধ্বংস করে, সেটাকে উন্নয়ন বলা যায় না।”
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, “ফুলবাড়ীর আন্দোলন শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্য শিক্ষা। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে গুলি চালিয়েও দমন করা যায়নি। জনগণের শক্তিতে বিদেশি কোম্পানির ষড়যন্ত্র পরাজিত হয়েছে।”
তিনি উন্নয়নের সংজ্ঞা তুলে ধরে বলেন, উন্নয়ন হবে এমন যাতে মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, পরিবেশ ও সুস্থতা বাড়ে এবং জনগণের সম্পৃক্ততা থাকে। কিন্তু ফুলবাড়ীতে যে উন্নয়নের নামে প্রকল্প চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল তা ছিল উল্টো—যা মানুষ জীবন দিয়ে প্রতিহত করেছে।
দীর্ঘ ১৯ বছরেও ফুলবাড়ীর ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তিন দফা দাবি জানান ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, আন্দোলনকারীদের নামে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চক্রান্ত বাতিল।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অক্টোবরের মধ্যে এসব দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
আলোচনা সভায় উপজেলা তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎবন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মোশারফ হোসেন নান্নু, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইদুল ইসলাম, সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক মনিরুজ্জামান মনির, সিপিবির উপজেলা সভাপতি জয়প্রকাশ গুপ্ত প্রমুখ।