যাদুরচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মচারীর দুই বছর ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর দুই বছর ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার হালদারের বিরুদ্ধে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বেতন ছাড়ের নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। উল্টো ভুক্তভোগী কর্মচারী বাবলু মিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী বাবলু মিয়া ২০০৯ সালে ‘পিয়ন’ পদে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত হয়ে বেতন-ভাতা পেতেন। কিন্তু ২০১৪ সালের সরকারি পরিপত্রে ‘পিয়ন’ পদটির নাম পরিবর্তন করে ‘অফিস সহায়ক’ করা হলে সেই পদ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন ২০২৩ সালে ওই পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে একজনকে নিয়োগ দেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে কয়েক দফা রায় ভুক্তভোগীর অনুকূলে এলেও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বেতন-ভাতা বন্ধ রাখেন।
বাবলু মিয়া অভিযোগ করেন, মাউশির নির্দেশ কার্যকরের আশ্বাস দিয়ে গত ১২ এপ্রিল তাকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও এখনো স্ট্যাম্প ফেরত পাননি। এতে তিনি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন দাবি করেন, হাইকোর্টে মামলা থাকায় বেতন-ভাতা দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার না করে বলেন, ইউএনও’র নির্দেশেই সেটি নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউএনও উজ্জ্বল কুমার হালদার সাংবাদিকদের জানান, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেতন বন্ধ রয়েছে। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি অবগত আছেন এবং তা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে গত ১০ আগস্ট একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি