মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • হেপাটাইটিস সি আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা ৩২ সাবেক ডিসির বাধ্যতামূলক অবসর রেড বুল-স্টিংসহ জনপ্রিয় পানীয়ের লেবেল বদলাতে নির্দেশ ভারতের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ না হলেও ভারতকে আনতে চায় বিসিবি টানা তিনদিন পর শেয়ারবাজারে স্বস্তি, বাড়ল সূচক ও লেনদেন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিজয়ীদের পুরস্কার দিলেন তারেক রহমান দেড় মাস পর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স পুনর্বহাল আইনশৃঙ্খলা উন্নত না হলে বিনিয়োগ বাড়বে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ-১বি ভিসা ৩ বছরের জন্য স্থগিতের বিল মার্কিন সিনেটে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর
  • দুই সন্তানের বাবাকে শিশু পরিচয় দিয়ে জামিনে মুক্তি

    দুই সন্তানের বাবাকে শিশু পরিচয় দিয়ে জামিনে মুক্তি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গাইবান্ধা আদালতে ২৫ বছরের এক যুবক ও দুই সন্তানের বাবাকে শিশু পরিচয়ে ভুয়া জন্মসনদ দেখিয়ে জামিনে মুক্ত করার ঘটনা ঘটেছে। 

    একইসঙ্গে আদালতের নথি জালিয়াতি, আসামির পরিচয় পরিবর্তন এবং শিশু আদালতকে ভুল পথে পরিচালিত করার অভিযোগও রয়েছে।

    মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই সেনাবাহিনীর অভিযানে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক কানুপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে পলাশ রানাসহ চারজনকে সরকারি ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটক করা হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান। এজাহারে পলাশ রানার বয়স ২৫ বছর উল্লেখ করা হয়।

    এদিকে ফৌজদারি মিস মামলাটি গাইবান্ধা দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানির জন্য পেন্ডিং ছিল। ওই মামলায় নিম্ন আদালতের রেকর্ড সংযুক্ত ছিল। কিন্তু গত ৩ আগস্ট একই আইনজীবী ও ল-ক্লার্কের সহায়তায় পলাশ রানা নাম পরিবর্তন করে ‘পলাশ মিয়া’ বানিয়ে নতুন জন্মসনদ তৈরি করা হয় এবং তাকে শিশু দেখিয়ে গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ জামিন আবেদন করা হয়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, শিশু আদালতে ওই মামলার এলসিআর না থাকলেও বিচারক মামলাটিকে ‘পেটি কেস’ (সাধারণত ছোটখাটো, তুলনামূলকভাবে গুরুত্বহীন বা হালকা ধরনের অপরাধমূলক মামলা) ভেবে এবং আইনজীবীর কথায় বিশ্বাস রেখে ‘গুড ফেইথে’ জামিন মঞ্জুর করেন। গত ১২ আগস্ট ধার্য তারিখে যখন পলাশ রানার হাজিরা দেওয়ার কথা, তখন আদালতে জানা যায়—তিনি শিশু আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই আদালতপাড়ায় তোলপাড় শুরু হয়।

    অভিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেফাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এই প্রতারণার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নিয়ম মেনেই তিনি জামিন আবেদন করেছেন।

    এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ ধানঘড়া গ্রামের মো. রহমত আলী নামে এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে নারী ও শিশু আদালতের পিপি আবু বকর সিদ্দিক ছানা এবং অ্যাডভোকেট শেফাউল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

    আইনজীবী মহল মনে করছেন, আদালতে এমন জালিয়াতি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারা বলছেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে গাইবান্ধা আদালতের বহু অনিয়ম বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

    এদিকে নারী-শিশু আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পিপি আবু বকর সিদ্দিক ছানা কালবেলাকে বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এরকম কিছু ঘটে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন