প্রভাষক স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

মাদ্রাসা প্রভাষক স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করল পাষণ্ড স্বামী'' ঠিক এমন একটি সংবাদ নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হচ্ছে ব্যাপক চর্চা। কিছু সময়ের জন্য হলেও এটি ছিল পটুয়াখালীর বাউফল তথা সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত সংবাদ।
সেই খবরটি হচ্ছে- গত ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেলের। এ দিন বাউফলের নুরাইনপুর নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসার প্রভাষক সালমা আক্তারকে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেন তারই স্বামী সারোয়ার হোসেন।
সালমা-সারোয়ারের সংসারে চার বছর বয়সী একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান রয়েছে। খুনের একদিন পর স্বামী সারোয়ার হোসেন একমাত্র পুত্র সন্তানসহ থানায় আত্মসমর্পণ করে বলেন, তিনি বর্তমান থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছে। এই ক্ষোভ থেকে তিনি তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তাদের উভয়ের বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায়।
এ ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি নিন্দার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুলোতে। একটা পক্ষ বলছে- সালমাকে হত্যা করে সঠিক কাজ করেছে স্বামী সারোয়ার। আরেকপক্ষ বলছে - সালমাকে কুপিয়ে হত্যা করে পৈচাশিক বর্বরতাকে হার মানিয়েছে পাষণ্ড স্বামী সারোয়ার।
তবে সচেতন মহল বলছে- কমবেশি পারিবারিক কলহ প্রায় সব স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে থাকে। এর সমাধানও আছে। কিন্তু কোনভাবেই কুপিয়ে হত্যা করা কিংবা অন্য কোনভাবে খুন করার অধিকার কারো নেই। নিঃসন্দেহে এমন অপকর্ম চরম উগ্রতা এবং বর্বরতার প্রমাণ বহন করে।
সমালোচকরা বলছেন- মাদ্রাসা প্রভাষক সালমা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করা কোনভাবেই তার স্বামী সরোয়ারের উচিত হয়নি। তার স্ত্রীকে তার পছন্দ হবে না। অথবা তার স্ত্রী অন্যকে বিয়ে করেছে। সে তার স্ত্রীকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তালাক দিতে পারতেন। কিংবা মামলা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে চরম দৃষ্টতা দেখিয়েছেন।
তারা আশঙ্কা প্রকাশ বলেন - পাষণ্ড স্বামী সরোয়ারের এমন অপকর্মের কারণে দেশের আরও অসংখ্য উগ্র স্বামী তাদের স্ত্রীকে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। দেশের কোথাও স্ত্রীর পরকীয়া হলে কিংবা স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ সৃষ্টি হলে পাষণ্ড সারওয়ার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন বাস্তবতায়, প্রভাষক সালমা আক্তারের হৃদয়হীন ও বর্বর স্বামী সারোয়ার থানায় এসে আত্মসমর্পণ করলেও তিনি দেশ ও জাতির জন্য একটি কলঙ্কের, লজ্জার এবং মারাত্মক নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছেন। যা ব্যক্তি, সমাজ তথা রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অশনি সংকেত।
বিশ্লেষকরা বলছেন - ঘাতক সারোয়ার কোন স্বাভাবিক মানুষ নয়। তিনি স্বাভাবিক হলে তার স্ত্রীকে, তার ফুটফুটে শিশুর সন্তানের মাকে ঠান্ডা মাথায় কুপিয়ে-কুপিয়ে হত্যা করতে পারতেন না। পাষণ্ড সারোয়ার একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষ। পর্যাপ্ত ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরে তিনি সুস্থ থাকলে তাকে যেন সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন আদালত।
তারা আরো বলেন- ঘাতক সারোয়ারকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে দেশের আইন-শৃঙ্খলার প্রতি সাধারণ মানুষ আস্থা হারাবে। যা কখনোই কোন আদর্শ রাষ্ট্রের জন্য সুখকর নয়। সেটি হতে পারে প্রকাশ্যে তার শাস্তি নিশ্চিত করা। যেটি একযোগে সম্প্রচারিত হবে দেশের প্রচারমাধ্যমগুলোতে। ফলে ভবিষ্যতে এমন অপকর্ম করতে কেউ সাহস করবে না।