শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

১২ বছর পর কবর থেকে জামায়াত কর্মীর মরদেহ উত্তোলন

১২ বছর পর কবর থেকে জামায়াত কর্মীর মরদেহ উত্তোলন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

রামগঞ্জ ট্র্যাজেডির দীর্ঘ ১২ বছর পর তদন্তের স্বার্থে কবর খুঁড়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার নিহত জামায়াত কর্মী আবু বকর সিদ্দিকের দেহাবশেষ (নমুনা) সংগ্রহ করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে আদালতের নির্দেশে নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ ইউনিয়নের আকাশকুড়ি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে এ দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয়।

মৃত্যুর এক যুগ পর এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। কবর খনন ও নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজীর ইসলাম, নীলফামারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজীব সাহা, নিহতের ছেলে লিটন রহমান ও সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু হানিফা শাহ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে লিটন রহমান, গত বছর (৩ নভেম্বর ২০২৪) নীলফামারী আমলী আদালতে ২০২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় এবং তখন ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় আবু বকর সিদ্দিক প্রাণ হারান। দীর্ঘ ১২ বছরেও হত্যার সঠিক বিচার না হওয়ায় তারা পুনঃতদন্তের আবেদন করেন আদালতে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দেহাবশেষ সংগ্রহের পর সেগুলো রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলার তদন্তে অগ্রগতি আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে লিটন রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনার মূল হোতা ছিলেন তৎকালীন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক। আমি দীর্ঘদিন ধরে বিচার চাইছি, আজ কবর খোঁড়ার মাধ্যমে নতুন করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব আসামিকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে আমরা ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন