নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি হেফাজতের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন, মৌলিক মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশিসহ হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব শায়েখ সাজিদুর রহমান এসব দাবি জানান।
শোকবার্তায় নেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আন্তর্জাতিক আইন, মৌলিক মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন। নিরীহ মানুষের ওপর এমন হামলা বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
নিহত দুই বাংলাদেশিসহ সব ভুক্তভোগীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন হেফাজতের নেতারা। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তারা।
বিবৃতিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। আহত ব্যক্তিদের সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়ার পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান নেতারা।
নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে সম্মানের সঙ্গে দাফন অথবা প্রবাসেই যথাযথ মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করার আহ্বানও জানানো হয়। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের পরিবার যেন আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা ও ক্ষতিপূরণ পায়, তা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিমানবন্দরসহ বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা বন্ধে জাতিসংঘ, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাসহ (ওআইসি) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিবৃতির শেষাংশে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করেন হেফাজতের নেতারা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া করেন তারা।