পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, ভোট শুরু ২১ জানুয়ারি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারা দেশে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি, ২৯ এপ্রিল, ১৩ মে ও ২৭ মে পর্যায়ক্রমে বাকি চার ধাপের ভোট হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে তাঁর সভাকক্ষে কমিশন সভা শুরু হয়।
সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণসহ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ, পারসোনালাইজেশন সেন্টারের যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, কার্ড ছাপানো, বকেয়া বিল পরিশোধ এবং নতুন চুক্তির বিষয়ও ছিল। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন ও বিবিধ বিষয় আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়।
দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ হাজার ৬৩টি ইউপি পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে আরও ১ হাজার ৪৮টি পরিষদের।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, পরিষদের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। কোনো কারণে পরিষদ ভেঙে দেওয়া হলে পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। এ সময়ের জন্য সরকার প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে। তবে দৈব-দুর্বিপাকের কারণে নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
২০২১ সালে ছয়টি ধাপ ও একটি বিশেষ ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার পাঁচ ধাপে সব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ইসি। সে অনুযায়ী, প্রতি ধাপে ৯০০টির বেশি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নিতে হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দুই ধাপে এবং ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে আরেক ধাপে ভোট আয়োজনের কথা ছিল। রমজানের পর ৬ জুনের আগে বাকি দুই ধাপের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনাও ছিল। তবে কোনো ইউনিয়ন পরিষদে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব না হলে পরবর্তী সুবিধাজনক তারিখে ভোট নেওয়া হবে বলে কমিশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
প্রথম তিন ধাপের নির্বাচনের মধ্যে কমপক্ষে ১০ দিনের বিরতি রাখার পরিকল্পনাও ছিল। পাঁচ ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরও কোনো ইউনিয়ন পরিষদের ভোট বাকি থাকলে সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রথম ধাপে জেলা সদরের সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ইসি। যেসব জেলার সদর সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে নিকটবর্তী উপজেলাগুলোর ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।