উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থান ও গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর
সরকার উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং দেশে গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোজ রবিবার ১১ অক্টোবর গাজীপুরের বোর্ডবাজারে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির আইইউটি ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের উচ্চশিক্ষাকে বিশ্বমানের করতে এবং শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও গবেষণা খাতে বাজেট উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনা করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
উক্ত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ওআইসি (OIC)-ভুক্ত ১৬টি সদস্য দেশের মোট ৬৫৯ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদসহ দেশী-বিদেশী উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক ও শিক্ষাবিদগণ।
সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে এবং অনুষ্ঠান চলাকালে প্রদত্ত বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উচ্চশিক্ষা, মেধা ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, "শিক্ষাজীবনের প্রকৃত সার্থকতা তখনই প্রকাশ পায়, যখন মানুষের অর্জিত জ্ঞান ও কাজের মাধ্যমে অন্যদের জীবন আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়। আমি তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের আহ্বান জানাবো, সমাবর্তন শেষে তারা যেন তাদের এই অর্জিত মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কেবল নিজেদের ক্যারিয়ারে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশ ও সমাজের কল্যাণে উৎসর্গ করেন।"
"আমাদের সরকার উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য কেবল সনাতন শিক্ষা ব্যবস্থা রাখতে চায় না। আমরা গবেষণার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছি। এর অংশ হিসেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার বাজেট পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। কারণ মানসম্মত গবেষণা ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।"
"উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা বৈশ্বিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের তরুণদের প্রস্তুত করতে চাই। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো নিয়ে কাজ করার জন্য তরুণদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হলে দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে একাডেমিক কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা শিক্ষার্থীদের মেডেল প্রদান করা হয়, সুমাইয়া আহমেদ রানী আইইউটি। আশফাক সিরাজ শুভ, মুহাম্মদ সাফায়াত জামিল, খালিদ হাসান আদর, আদিবা জাহীন, ফারহান লবিব ও তাসফিয়া মাহমুদ।