মসজিদে নববীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুথিদের ড্রোন হামলার অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মদিনার তাইবা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুথিদের ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মসজিদে নববীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের হামলাকে ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থানের পবিত্রতার ওপর অগ্রহণযোগ্য আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছে সরকার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর যেকোনো আগ্রাসী কর্মকাণ্ড দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ।
এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হুথিরা হামলা চালিয়েছে। ওই কেন্দ্র থেকেই মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বলে জানায় জোটটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি অনুযায়ী হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে এতে পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কে কোনো প্রভাব পড়েনি।
হুথিরা অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবাকে দেওয়া এক সামরিক সূত্রের বক্তব্যে জোটের দাবি মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়। পরে হুথিরা দাবি করে, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে থাকা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্রও জানান, জোটের বাহিনী সানায় তাদের ভাষায় ‘উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্য বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনাকে ২০২২ সালের পর সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের আন্তসীমান্ত হামলা অনেকটাই কমে এসেছিল।
তবে চলতি বছর আবার উত্তেজনা বেড়েছে। জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়। এরপর সৌদি ভূখণ্ড ও জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় হুথি বাহিনী কিছু ভূখণ্ডগত সাফল্য অর্জন করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর জবাবে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে।