সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরান মুস্তাফিজের এমন বোলিং অপ্রত্যাশিত, মোসাদ্দেককে ব্যবহার করা উচিত ছিল: সুজন পুলিশে বড় রদবদল, ডিআইজি-এসপি পদমর্যাদার ২৪ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা ডেঙ্গু ও হাম উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩ হাজার ৩০৭ নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে নির্বাচনী ব্যয় কমানোর তাগিদ জয়শঙ্করের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ দিল্লিতে রিয়াজ হামিদুল্লাহর বাংলাদেশের ৯২% পণ্যে যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকবে: সারাহ কুক টোকিওতে বাড়ছে যৌন পর্যটনের অভিযোগ, উদ্বেগে জাপান ভার্চুয়াল যোগাযোগেই কি ভাঙছে দাম্পত্যের বিশ্বাস?
  • যুদ্ধ নয়, উন্নয়ন ও শান্তিই বাংলাদেশের অগ্রাধিকার: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

    যুদ্ধ নয়, উন্নয়ন ও শান্তিই বাংলাদেশের অগ্রাধিকার: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট, ভূখণ্ড দখল বা শোষণের রাজনীতিতে আগ্রহী নয়। দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বৈশ্বিক সংকট শুধু চীনকে ঘিরে নয়; যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মতো দেশগুলোর মধ্যকার উত্তেজনাসহ বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তার সংকটের ভুক্তভোগী হচ্ছে।

    তিনি বলেন, “আমি অবাক হয়েছিলাম যে আপনারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিয়ে কথা বলছেন না। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক সংকট শুধু চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আমরা সবাই এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তার ভুক্তভোগী।”

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতা সহজে শেষ হওয়ার নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর পেছনে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং প্রতিপক্ষকে এগিয়ে যেতে না দেওয়ার মানসিকতা কাজ করছে।

    তিনি বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ভারত ও চীন প্রায় একই অবস্থানে ছিল। পরে চীন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে উৎপাদনমুখী শিল্পে বেশি গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে ভারত কৃষি থেকে সেবা খাতের দিকে এগিয়ে যায়। এর ফলে চীন অর্থনৈতিক ও উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে অনেক এগিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে পার্থ বলেন, “আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের একটি অংশ এবং আমরা স্থিতিশীলতা চাই, কারণ আমরা উন্নতি করতে চাই।” যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের চাপ সামলানোর সক্ষমতা রাখলেও বাংলাদেশের মতো ভোক্তানির্ভর দেশের জন্য এর প্রভাব বেশি কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের প্রধান চিন্তা খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে। যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়িয়ে পড়ার মতো সময় বাংলাদেশের নেই। সংঘাতের শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই এর ভুক্তভোগী হয়।

    বিভিন্ন দেশের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের কথাও তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই—এমন যুদ্ধের প্রভাবেও দেশকে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।

    পার্থ বলেন, “আমরা কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাই না। আমরা চাই চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো আমাদের উন্নতি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করুক।”

    বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের সক্ষমতা রয়েছে এবং তারা কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত। এ জন্য প্রয়োজন এমন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ, যেখানে মানুষ শান্তিতে কাজ করতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে পারে।

    ‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

    সিজিএসের আয়োজনে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন।

    তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন ৫ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন