ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চলবে: শফিকুল ইসলাম

ফুটপাত দখল হলে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশনকে কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নগরবাসীর চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা ও নগরসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুটপাত উচ্ছেদের আগে কাউকে জানানোর বিষয়ে কোনো আইন বা বিধি থাকলে তা দেখানোর আহ্বানও জানান তিনি।
ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কিছু ব্যবসায়ী ও হকারের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিন দখলে থাকা ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ফার্মগেটসহ যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকাতেও অভিযান চালানো হবে। ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দলের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়েই ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, কিছু মহল সিটি করপোরেশন ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে একটি মনিটরিং টিম গঠন করেছে ডিএনসিসি। শনিবার দুপুরে ডিএনসিসির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিএনসিসি প্রশাসকের নির্দেশে মিরপুর-১০ এলাকায় একটি মনিটরিং টিম কাজ করবে। দলটি নিয়মিত এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে। ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান বা স্থাপনা বসানো হলে মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ কম থাকে। তাই নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি ভবন ও পরিত্যক্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৯০ দিনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রতিদিন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তিন ধরনের লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে।