রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • জানাজার নামাজের অজু দিয়ে কি অন্য নামাজ পড়া যাবে? গাজীপুরে গার্মেন্টস কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিট আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য শেরপুরের দুই কিশোরী মনোনীত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও ডেঙ্গুতে ১৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২,৭৬১ ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান তিন মাসের মধ্যে গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল যাবে চুনকুটিয়ায় দু-একটি অঘটনে পুরো আলেম সমাজকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়: শফিকুর রহমান ‘লজ্জা’র চরিত্রে নিজেকে বদলাতে ওজন কমিয়ে ট্রিটমেন্ট নিলেন নুসরাত ফারিয়া অপরাধে জড়ালে বিএনপিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির পুরোনো: আলাল শেখ হাসিনাকে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া ভারতের হাতে বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী
  • আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য শেরপুরের দুই কিশোরী মনোনীত

    আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য শেরপুরের দুই কিশোরী মনোনীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শিশু অধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন শেরপুরের দুই কিশোরী ফারাবি জাবিন শায়েরী (১৬) ও জয়া বণিক (১৭)। বিশ্বের ৫৭টি দেশের ২৮০ জন শিশুর সঙ্গে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন তারা।

    গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থার ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক শিশু অধিকার সংস্থা ‘কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন’ প্রতিবছর শিশুদের অধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার দিয়ে থাকে।

    শৈশব থেকেই শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চনার চিত্র ফারাবি জাবিন শায়েরীকে ভাবিয়ে তোলে। গ্রামাঞ্চলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার বয়সেই অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়া, আদিবাসী শিশুদের মধ্যে কুসংস্কার, শিক্ষার সীমিত সুযোগ ও দারিদ্র্যের প্রভাব তাকে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

    পরিবারের পক্ষ থেকে নিরুৎসাহিত করা হলেও শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ চালিয়ে যান শায়েরী। প্রথমে শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করলেও পরে ঢাকায় পথশিশুদের নিয়েও কাজ শুরু করেন তিনি।

    শিশুদের অধিকার রক্ষায় শায়েরী ‘সেফ চাইল্ড ক্লাব’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তোলেন। এর মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যালয়কে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলা। এসব ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাল্যবিবাহ, নির্যাতন ও শিশুশ্রমসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানাতে পারে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করা হয়।

    মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ফারাবি জাবিন শায়েরী বলেন, “এই মনোনয়ন আমার জন্য শুধু একটি স্বীকৃতি নয়, বরং শিশুদের অধিকার নিয়ে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা। ছোটবেলা থেকেই আমি বিশ্বাস করি, পরিবর্তনের জন্য বড় হওয়ার অপেক্ষা করতে হয় না। শিশুরাও শিশুদের জন্য আওয়াজ তুলতে পারে।”

    অন্যদিকে, গত চার বছর ধরে শিশু অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছেন জয়া বণিক। উপকূলীয় অঞ্চলে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চনার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে গ্রাম ও অনলাইন—দুই পর্যায়েই সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন তিনি।

    জয়ার উদ্যোগে একাধিক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবারকে শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশু অধিকার বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কর্মশালা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি।

    এসব কার্যক্রমে শিশু সুরক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং শিক্ষার প্রতি শিশুদের আগ্রহ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

    জয়া বণিক বলেন, “আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই।”

    ২০২০ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার পান নড়াইলের সাদাত রহমান। সাইবার বুলিং থেকে শিশুদের সুরক্ষায় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ পুরস্কার পান।

    ২০০৫ সালে ইতালির রোমে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিবছর একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এ পুরস্কার হস্তান্তর করেন। এ কারণে পুরস্কারটি ‘শিশুদের নোবেল’ নামেও পরিচিত।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন