গাজীপুরে প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা

গাজীপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও পালপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। ২০২৬ সালের আসন্ন দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা আগামী ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথির মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে। এই উৎসবকে ঘিরে গাজীপুর জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং কারিগররা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটির কাঠামো ফুটিয়ে তোলার চূড়ান্ত কাজে মগ্ন রয়েছেন।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, গাজীপুরের স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্দিরগুলোতে প্রতিমা তৈরির মৃৎশিল্পীদের পাল সম্প্রদায় ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। বাঁশ, খড়, সুতলি আর কাদা-মাটির মিশ্রণে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার কাঠামোতে এখন চলছে ফিনিশিং ও রঙের প্রলেপের কাজ। এবার গাজীপুর জেলার বিভিন্ন থানা ও উপজেলা মিলিয়ে কয়েকশত মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর এলাকার পালপাড়ায় কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই। এখানকার কারিগররা বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে অর্ডার নিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। জেলা শহরের কেন্দ্রস্থল এবং সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপগুলোর জন্য বিশাল আকৃতির প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে মণ্ডপ প্রাঙ্গণেই। গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকার মণ্ডপগুলোতেও স্থানীয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল যেমন ফরিদপুর, বিক্রমপুর থেকে আসা নামী কারিগররা প্রতিমা সাজানোর কাজ করছেন।
মৃৎশিল্পী কার্তিক পাল বলেন, "আমরা দুই মাস আগে থেকেই কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছি। এখন খড় আর মাটির প্রাথমিক কাজ শেষ। দেবী দুর্গার সাথে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুর তৈরির কাজও সমানতালে করতে হয়। দিনরাত পরিশ্রম করছি যাতে সময়ের মধ্যে রঙের নিখুঁত ছোঁয়ায় মায়ের রূপ ফুটিয়ে তুলতে পারি।"
প্রতিমা শিল্পী খোকন চন্দ্র পাল বলেন, "গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বাঁশ, খড়, দড়ি আর রঙের দাম অনেকটা বেশি। তাই প্রতিমা তৈরিতে খরচ বাড়লেও আমরা সনাতনী ঐতিহ্য ধরে রাখতে উৎসবের আনন্দে কাজ করে যাচ্ছি।"
স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "এ বছর আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাড়ম্বরে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বিক সহযোগিতা এবং বিশেষ নির্দেশনাবলী প্রদান করছে।"
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও পঞ্জিকা মতে, ১৭ অক্টোবর শনিবার মহাষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ১৮ অক্টোবর রবিবার মহাসপ্তমী পূজা। ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাঅষ্টমী ও মহানবমী পূজা এবার তিথি অনুযায়ী অষ্টমী ও নবমী একই দিনে উদযাপিত হবে এবং কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর টহল এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় যুব সমাজ ও স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করার জন্য জোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।