বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই বোয়িং চুক্তি: মাহদী আমিন

কোনো ধরনের চাপের কারণে নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ বিবেচনায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বোয়িং চুক্তি প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, এটি কোনো পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলেও দুই দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে চুক্তিটি সই হয়েছে। এতে বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক সিভিল নিউক্লিয়ার কোঅপারেশন নিয়েও একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, সফরটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা জাতিসংঘকেন্দ্রিক ছিল না। প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সহযোগিতা এবং যৌথভাবে কাজ করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানবাধিকার ও বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, স্বল্প সময়ের এই সফরে বহু বছর পর বাংলাদেশ থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সরকারপ্রধান বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জাতিসংঘে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের বিষয় নিয়েই কথা বলেননি, বিশ্বশান্তির কথাও তুলে ধরেছেন। ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেছেন। এর প্রতিফলন হিসেবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউটের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।