রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সালমানের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, তাসনিম জারা বললেন ‘আমি বাকরুদ্ধ’ মেসি-ওতামেন্দিবিহীন আর্জেন্টিনায় ডাক পেতে পারেন বোকা ডিফেন্ডার ব্লাঙ্কো শ্রীলীলার এক পোস্ট দেখেছে ২৫ কোটির বেশি মানুষ সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসনে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি আইডিয়াল কলেজ ও ঢাকা কলেজের মধ্যে সংঘর্ষ রাবির হলে ঘুমন্ত শিক্ষার্থীকে বিষধর সাপের কামড় রাড্ডা কেন্দ্রে হামলা-লুটপাট: শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই বোয়িং চুক্তি: মাহদী আমিন পিরিয়ডের সময় বেশি ঠান্ডা লাগে! সমাধান কী? সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় লজ্জিত ঢাবি ছাত্রদল নেতা
  • এক দেশের ওপর নির্ভরতা নয়, আমদানিতে চাই বহুমুখিতা

    এক দেশের ওপর নির্ভরতা নয়, আমদানিতে চাই বহুমুখিতা
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ভোক্তা বাজারের জন্য আমদানি বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কাঁচামাল, জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, খাদ্যপণ্যসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান অনেকাংশেই আমদানিনির্ভর। ফলে কোন দেশ থেকে কী পরিমাণ পণ্য আসছে, সেই নির্ভরতার কাঠামো অর্থনীতি, বাজারদর ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এ বাস্তবতায় একটি বা দু-একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে আমদানি উৎসে বহুমুখিতা তৈরি করা প্রয়োজন।

    বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে ভোগ্যপণ্য, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বড় অংশ আসে এসব দেশ থেকে। ভৌগোলিক নৈকট্য, উৎপাদন সক্ষমতা, তুলনামূলক কম পরিবহন ব্যয় এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে এ নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে আমদানির উৎস যত বেশি বৈচিত্র্যময় হবে, সরবরাহ ব্যবস্থায় আকস্মিক সংকটের ঝুঁকিও তত কমবে।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিধি বাড়ছে। ফলে আমদানির ক্ষেত্রেও নতুন নতুন উৎস তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো একটি দেশকে বর্তমান নির্ভরতার বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই বহুমুখিতার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। বরং পণ্যের ধরন, মূল্য, গুণগত মান, সরবরাহের নিশ্চয়তা, পরিবহন ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একাধিক উৎস থেকে আমদানির সুযোগ তৈরি করাই হতে পারে কার্যকর কৌশল।

    একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পরিবর্তন, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন সংকট কিংবা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার প্রভাব দ্রুত বাংলাদেশের বাজারে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাজারে মূল্যচাপও দেখা দিতে পারে। আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য থাকলে এসব ঝুঁকি কিছুটা ভাগ করে নেওয়া সম্ভব।

    তবে বহুমুখিতা মানেই শুধু বেশি দেশ থেকে পণ্য আমদানি নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন আমদানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, মান নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত করা এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো। যেসব পণ্য দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে স্থানীয় শিল্পকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বিকল্প আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী তৈরি করতে হবে।

    বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতিতে তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন। কোন পণ্যে কোন দেশের ওপর কতটা নির্ভরতা রয়েছে, কোন পণ্যের বিকল্প সরবরাহকারী পাওয়া সম্ভব এবং কোন উৎস থেকে আমদানি করলে ব্যয় ও ঝুঁকি কমবে—এসব বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে নতুন বাজার ও নতুন সরবরাহকারী খুঁজে বের করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্যিক উদ্যোগ বাড়ানো দরকার।

    বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, যুদ্ধ, শুল্কনীতি, জ্বালানি সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রচলিত হিসাবকে বদলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য আমদানি উৎসের বৈচিত্র্য শুধু বাণিজ্যিক বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরতার প্রশ্নে না গিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থে এমন একটি আমদানি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে একাধিক দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে কার্যকর বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজার, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ এবং ন্যায্য মূল্যের সুযোগ তৈরি হলে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।

    সর্বোপরি, আমদানি বাণিজ্যে বহুমুখিতা কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কমানো বা অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর নীতি হওয়া উচিত নয়। এর মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার ঝুঁকি কমানো, সরবরাহের নিশ্চয়তা বাড়ানো এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলা। এক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী আমদানি কাঠামোই হতে পারে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ