পিরিয়ডের সময় বেশি ঠান্ডা লাগে! সমাধান কী?

পিরিয়ডের সময় নারীর শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। মেজাজের ওঠানামা, খাবারের প্রতি বাড়তি আকাঙ্ক্ষা, পেটব্যথার পাশাপাশি অনেকের এ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোচনায় এ ধরনের অনুভূতিকে অনেক সময় ‘পিরিয়ড চিলস’ বলা হয়।
পিরিয়ডের সময় ঠান্ডা লাগার অন্যতম কারণ হরমোনের স্বাভাবিক ওঠানামা। ডিম্বস্ফোটনের পর শরীরে প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বাড়ে। এতে শরীরের মূল তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যেতে পারে। পিরিয়ড শুরুর আগে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শরীরের তাপমাত্রাও আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এই পরিবর্তনের সময় অনেকের ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে, বিশেষ করে হাত-পায়ে।
পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত থাকলেও ঠান্ডা লাগার প্রবণতা বাড়তে পারে। নিয়মিত বেশি রক্তক্ষরণ হলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এই ঘাটতি আয়রন-স্বল্পতাজনিত রক্তস্বল্পতার কারণ হতে পারে। এতে দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং ঠান্ডার প্রতি বেশি সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া পিরিয়ডের সময় ক্ষুধা কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ঘুমের ঘাটতি কিংবা ব্যথার কারণেও শরীর খারাপ বা ঠান্ডা লাগার মতো অনুভূতি হতে পারে।
পিরিয়ডের সময় ঠান্ডা লাগার অস্বস্তি কমাতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা, আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি রাখা উপকারী হতে পারে। শাকসবজি, ডাল, শিম, তিল ও চর্বিহীন মাংস আয়রনের ভালো উৎস। ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। এ সময় প্রয়োজন অনুযায়ী স্তরে স্তরে পোশাক পরা, গরম পানীয় পান করা এবং হালকা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকাও আরাম দিতে পারে।
পিরিয়ডের সময় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় আলোচনা হয়েছে। ‘বিএমসি উইমেনস হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায়ও মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরের তাপমাত্রায় পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
পিরিয়ড শুরুর আগে প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বাড়ার ফলে মূল শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকতে পারে। পিরিয়ড শুরু হলে এই হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় তাপমাত্রাও কিছুটা কমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে কারও কারও ঠান্ডা লাগার অনুভূতি হতে পারে।
পিরিয়ডের ব্যথার সঙ্গেও শরীরের এই অনুভূতির সম্পর্ক থাকতে পারে। এ সময় শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের রাসায়নিকের মাত্রা বাড়ে। এটি জরায়ুর সংকোচন ঘটিয়ে পিরিয়ডের ব্যথা বা ক্র্যাম্প তৈরিতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কারও কারও জ্বরের সময়ের মতো শীত শীত অনুভূতি হতে পারে।
তবে পিরিয়ডের সময় হাত-পা ঠান্ডা লাগা বা শরীরে শীত শীত অনুভূতি হলেই তা কোনো রোগের লক্ষণ—এমন নয়। হরমোনের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেও এটি হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ঠান্ডা লাগার সমস্যা নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে রক্তে আয়রন ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পরীক্ষা করা হতে পারে।
পিরিয়ডের সময় শরীরের পরিবর্তন ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই সামান্য ঠান্ডা লাগা নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন না থাকলেও শরীরের অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গকে অবহেলা না করাই ভালো।