রাড্ডা কেন্দ্রে হামলা-লুটপাট: শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগের মধ্যে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) হেডকোয়ার্টার্স থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে তাকে প্রশাসনিক কারণে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করার কথা জানানো হয়। আদেশে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সই রয়েছে।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার রাতেই তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন।
এদিকে রাড্ডা কেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার আখতার হোসেন এক বার্তায় জানান, হামলা ও লুটপাটে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় হানিফ মিয়া নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। পরে তারা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ টাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী নিয়ে যান।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়। হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
এ ছাড়া হামলার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের আরও অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।