চার রাকাত নফলের নিয়ত করে দুই রাকাত শেষে সালাম দিলে কী করবেন?

ফরজ ইবাদত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য পালনীয়। কিয়ামতের দিন আমলের হিসাবের ক্ষেত্রে নামাজের হিসাবই প্রথম নেওয়া হবে। তাই ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল ইবাদতের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নফল আমল ফরজের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন বান্দার যে আমলের হিসাব প্রথম নেওয়া হবে তা হলো নামাজ। নামাজ সঠিক হলে সে সফল হবে। আর নামাজে ঘাটতি থাকলে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের বলবেন, তাঁর বান্দার কোনো নফল নামাজ আছে কি না, যা দিয়ে ফরজ নামাজের ঘাটতি পূরণ করা যায়। এরপর অন্যান্য আমলের হিসাবও একইভাবে নেওয়া হবে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৮৬৪)
নফল নামাজ সাধারণত দুই বা চার রাকাত পড়া যায়। তবে চার রাকাত নফল নামাজের নিয়ত করে কেউ যদি দুই রাকাত আদায় করার পর সালাম ফিরিয়ে দেন, তাহলে তার করণীয় কী—এ বিষয়ে ফিকহবিদদের ব্যাখ্যা রয়েছে।
ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, নফল ইবাদত শুরু করার পর তা বিনা কারণে ছেড়ে দিলে তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়। তবে নফল নামাজের ক্ষেত্রে শুরুতে যে দুই রাকাত আদায় করা হয়, সেটিই ওয়াজিব হয়; পরবর্তী দুই রাকাত শুরু না করলে সেগুলো ওয়াজিব হয় না।
অর্থাৎ, কেউ চার রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলেন এবং প্রথম দুই রাকাত আদায় করার পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করে দিলেন—এ ক্ষেত্রে প্রথম দুই রাকাতই তার ওপর প্রযোজ্য হবে। পরবর্তী দুই রাকাত তিনি শুরুই করেননি। তাই ওই দুই রাকাত পুনরায় আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব হবে না।
অন্যদিকে, প্রথম দুই রাকাত শেষ করার পর যদি তিনি আরও দুই রাকাতের জন্য নামাজ শুরু করেন, তাহলে ওই পরবর্তী দুই রাকাতও তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে কোনো কারণে তা অসম্পূর্ণ রেখে দিলে পুনরায় আদায়ের বিধান প্রযোজ্য হবে।
তাই চার রাকাত নফলের নিয়ত করে দুই রাকাত পড়ার পর সালাম ফিরিয়ে ফেললে সাধারণভাবে পরবর্তী দুই রাকাত আলাদাভাবে পুনরায় আদায় করা জরুরি নয়। তবে নফল নামাজের বিভিন্ন মাসআলায় মাজহাবভেদে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। ব্যক্তিগত কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্থানীয় আলেম বা নির্ভরযোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়া উত্তম।