মানসম্মত চিকিৎসায় বিদেশমুখী রোগী কমানোর আহ্বান

দেশের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করে রোগীদের বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেছেন, রোগ নির্ণয়ে নির্ভুলতা, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসক ও নার্সদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর শান্তিনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যাবটের সম্পূর্ণ ল্যাবরেটরি অটোমেশন সিস্টেম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, শিক্ষা ও চিকিৎসা—এই দুই খাতেই আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। দেশের অনেক মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ প্রবণতা কমাতে হলে প্রথমেই রোগ নির্ণয়ের মান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সঠিক রোগ শনাক্ত না হলে চিকিৎসকদের পক্ষেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের পর নার্সিং ও পরিচর্যা সেবার মান আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
নতুন ল্যাবরেটরি অটোমেশন ব্যবস্থার প্রশংসা করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এর মাধ্যমে এলাকার মানুষসহ রাজধানীবাসী উন্নত সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি নিজেও শান্তিনগরের বাসিন্দা উল্লেখ করে বলেন, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হলে মানুষ প্রয়োজনে কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতেও প্রস্তুত। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকার বা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি জানান, গত মে মাসে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জরিপ পরিচালনা করা হয়েছিল। এতে ২৮ থেকে ২৯টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরপর এসব এলাকায় জনসচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়।
সামনের কয়েক মাস ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগী যাতে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
পাশাপাশি বাসাবাড়িতে এসির জমে থাকা পানি এবং বড় ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। এসব জায়গায় পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।