শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

অক্টোবরে পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর আশা প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবরে পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর আশা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

শিশুদের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের পাঁচটি অঞ্চলে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে এসব হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী অক্টোবর মাসে হাসপাতালগুলো একযোগে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের নতুন ভবন-২-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন ভবনের উদ্বোধন সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো ও প্রযুক্তি বাড়ানো নয়। উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন ও সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নতুন ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো।

তারেক রহমান বলেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে রোগীর চাপ ও চিকিৎসাসেবার চাহিদা বাড়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত নতুন অবকাঠামো যুক্ত করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্নায়ুবিক জটিলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ট্রোক, মৃগীরোগ, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া ও মেরুদণ্ডের বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত রোগীর জন্য উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে।

নতুন ভবন চালুর ফলে এসব রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয়ে নির্মিত ভবনটি শুধু রোগী ভর্তির সক্ষমতাই বাড়াবে না, চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে কম খরচে উন্নতমানের নিউরো চিকিৎসা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই ‘নিউরোসায়েন্স-২’ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, অতিরিক্ত শয্যা ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে এটি দেশের অসংখ্য রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু আধুনিক প্রযুক্তি থাকলেই স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা যায় না; চিকিৎসাক্ষেত্রে মানবিকতার গুরুত্বও অপরিসীম। প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার মানসিক অবস্থা বোঝা এবং সম্মানজনক ও সহানুভূতিশীল আচরণ চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করে।

চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজন—এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহমর্মিতার সম্পর্ক থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের পারস্পরিক আস্থা ও মর্যাদার সম্পর্ক না থাকে, তাহলে শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন করে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন