শাফিকের ১৫০ ও স্পিনে পাকিস্তানের দাপট, চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

তৃতীয় দিনের নাটকীয় লড়াই শেষে টেস্ট ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে পাকিস্তান। আবদুল্লাহ শাফিকের দুর্দান্ত ১৫০ রানের ইনিংসের পর স্পিনার সাজিদ খান ও আলি উসমানের বিধ্বংসী বোলিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে চাপে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দিন শেষে ক্যারিবীয়রা ৬ উইকেটে ১০৩ রান সংগ্রহ করেছে। প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে পিছিয়ে থাকায় তাদের মোট লিড এখন মাত্র ৬০ রান। হাতে আছে চারটি উইকেট। ফলে শেষ দিনে বড় সংগ্রহ গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিনের শুরুতে পাকিস্তান ভালো অবস্থানে থাকলেও দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। অধিনায়ক বাবর আজম রানআউট হওয়ার পর অভিষিক্ত আওয়াইস জাফর ও সালমান আগাও দ্রুত বিদায় নেন। এতে পাকিস্তানের ইনিংসে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দেন আবদুল্লাহ শাফিক। ইনিংসের হাল ধরে তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলেন এবং দেড় শতক পূর্ণ করেন। নিচের সারির ব্যাটার সাজিদ খান ৩৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে তাকে দারুণ সমর্থন দেন।
শেষদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান দুর্দান্ত বোলিং করেন। তিনি একাই ৬ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ইনিংস ৩৪৪ রানে থামিয়ে দেন। এতে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানের লিড পায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুটা ভালো করলেও পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের সামনে বেশি দূর এগোতে পারেনি। অধিনায়ক সাজিদ খান প্রথমে ত্যাগনারায়ন চন্দরপল ও আমির জাঙ্গুকে ফিরিয়ে দেন। পরে শাই হোপ ও জেডেন সিলসকেও আউট করে ইনিংসে চার উইকেট পূর্ণ করেন।
অন্য প্রান্তে আলি উসমানও কার্যকর বোলিং করেন। তিনি কাভেম হজ ও রস্টন চেজকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপে আরও চাপ তৈরি করেন।
দিন শেষে ১০৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনোমতে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে। ম্যাচের ভাগ্য এখনও নির্ধারিত না হলেও ভাঙাচোরা উইকেটে পাকিস্তান স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছে। শেষ চার উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কতটা লিড বাড়াতে পারে, সেটিই এখন ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।