বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • ‘পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেবো’; ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    ‘পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেবো’; ড. মুহাম্মদ ইউনূস
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে জাতির ভবিষ্যৎ পথচলার অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ যদি কখনো পথ হারিয়ে ফেলে, তাহলে এই জাদুঘরে ফিরে এসে নতুন করে দিকনির্দেশনা খুঁজে নেওয়া সম্ভব হবে।

    বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও এই জাদুঘরের বিশেষত্ব হলো—এখানে ইতিহাস বহু বছর পরে সংগ্রহ করা হয়নি; বরং গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সময়ই সংশ্লিষ্ট দলিল, আলোকচিত্র, স্মারক ও মানুষের অনুভূতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এটি ইতিহাস সংরক্ষণের একটি নতুন দৃষ্টান্ত।

    তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক তরুণ নিজের অনুভূতি, স্বপ্ন ও সংগ্রামের কারণ চিঠি বা লেখার মাধ্যমে তুলে গেছেন। এসব দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের চেতনা জাগ্রত রাখতে ভূমিকা রাখবে।

    নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী, তরুণ এবং সাধারণ নাগরিকের অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। শুধু ইতিহাস দেখা নয়, বরং এখানে বসে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও পরিকল্পনা লিখে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই জাদুঘর শুধু ইতিহাসের সংগ্রহশালা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

    জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, প্রতিটি শহীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে, যাতে মানুষ জানতে পারে তারা কী উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না; তারা ছিলেন সাধারণ পরিবারের সাধারণ তরুণ-তরুণী, যারা একটি নতুন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন।

    জাদুঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও নিষ্ঠা প্রয়োজন হয়েছে। এই প্রচেষ্টার ফলেই জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

    বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশের মানুষকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্তত একবার জাদুঘরটি পরিদর্শনের আহ্বান জানান। তার ভাষায়, এটি শুধু দেখার জায়গা নয়; বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন