খুলনার ক্রিকেটার এখন মালয়েশিয়ার ভরসা, জানালেন সংগ্রামের কাহিনি

বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে প্রতিশ্রুতিশীল এক নাম ছিলেন খুলনার নাজমুস সাকিব। অনূর্ধ্ব-১৬ দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বিভাগীয় পর্যায়েও খেলেছেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে থেমে যায় তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। জীবিকার সন্ধানে ২০১৮ সালে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়।
প্রবাসে গিয়ে একটি বেডশিট কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের কার্টন বহনের মতো কঠোর পরিশ্রমের পরও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা হারাননি। রাতে বাসায় ফিরে নিজেই অনুশীলন চালিয়ে যেতেন, যাতে ব্যাটিংয়ের ছন্দ বজায় থাকে।
বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে এসে ঢাকা পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, নিজের দেশের বিপক্ষে খেলাটা আবেগের হলেও তিনি এখন মালয়েশিয়া জাতীয় দলের প্রতিনিধি হিসেবে শতভাগ পেশাদারিত্ব দেখাতে চান।
তিনি জানান, বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ এবং বিভাগীয় ক্রিকেট খেলেছেন। কিন্তু পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় বাবার মৃত্যুর পর দুই বোন ও মায়ের দায়িত্ব নিতে বিদেশে যেতে বাধ্য হন।
মালয়েশিয়ায় প্রথম কয়েক বছর টেপ টেনিস ক্রিকেট খেললেও পরে একটি ক্লাবের মাধ্যমে প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পান। প্রথম ম্যাচেই মাত্র ৫০ বলে সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন। এরপর ইন্টার-স্টেট টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে মালয়েশিয়া ‘এ’ দলে ডাক পান।
ইতালির বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স এবং পরে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৫০ বলে ১২২ রানের ঝড়ো ইনিংস তাকে পৌঁছে দেয় মালয়েশিয়া জাতীয় দলে।
সাকিব বলেন, শুরুতে কোম্পানি থেকে ছুটি নিয়ে খেলতে হতো। বড় ভাই আজিজ শেখের মানসিক সমর্থন তাকে কঠিন সময়ে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। ভাইয়ের অপূর্ণ স্বপ্নই নিজের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি।
নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে খুলনার কোচ জুয়েলের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন সাকিব। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ক্রিকেট সরঞ্জামের বেশিরভাগই কোচের সহযোগিতায় পেয়েছেন। এমনকি একসময় তার মা কানের দুল বিক্রি করে ব্যাট কিনে দিয়েছিলেন।
বর্তমানে মালয়েশিয়া ক্রিকেটের উন্নয়ন নিয়েও আশাবাদী এই ব্যাটার। তার বিশ্বাস, দেশটির ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে দল।
দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে সাকিব বলেন, যতদিন ক্রিকেট খেলবেন, ততদিন নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে মালয়েশিয়ার হয়ে সাফল্য এনে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।