ব্যাংকের দাপটে সূচকের উত্থান, বিমা কোম্পানির শেয়ারে বড় পতন

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের উত্থানে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে। যদিও এদিন দাম কমেছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, তবুও ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বস্ত্র খাত এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইতিবাচক পারফরম্যান্স সূচককে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে বিমা খাতে ছিল ব্যাপক দরপতন।
সোমবার (২০ জুলাই) লেনদেনের শুরু থেকেই ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমার প্রবণতা দেখা যায়। তবে শেষ ভাগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ায় বাজারের প্রধান সূচক ইতিবাচক অবস্থানে দিন শেষ করে।
দিন শেষে ডিএসইতে ১৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৮২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮টির দাম।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮টি ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে মাত্র ২টির। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৩টির। বস্ত্র খাতের ৩১টি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ২২টি ইউনিটের দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে বিমা খাতে চিত্র ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। এ খাতের মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ৫২টির দর কমেছে।
লভ্যাংশভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মধ্যেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। 'এ' ক্যাটাগরির ৭২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়লেও ১০৩টির দর কমেছে। 'বি' ক্যাটাগরির ২৮টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে এবং ৩৯টির কমেছে। 'জেড' ক্যাটাগরির ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের দর বাড়লেও ৪০টির দর কমেছে।
এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৮৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ২,২০৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৬০ পয়েন্ট কমে ১,১৯৭ পয়েন্টে নেমেছে।
লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা কম।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারে, যার পরিমাণ ৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে টেকনো ড্রাগস (৩৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা) এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট (২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা)। শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় আরও রয়েছে এসিআই ফর্মুলেশন, ফারইস্ট নিটিং, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, জেনেক্স ইনফোসিস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, এমএল ডাইং এবং লাফার্জহোলসিম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৯৭টির। তবুও সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১০ পয়েন্ট কমেছে। তবে এ বাজারে লেনদেন বেড়ে ১১ কোটি ১৫ লাখ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।