মেসির শেষ স্বপ্ন ভাঙার নেপথ্যে আর্জেন্টিনার ভুল পরিকল্পনা?

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর একদিকে যখন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পুরো স্টেডিয়াম, অন্যদিকে লিওনেল মেসির মুখে ফুটে উঠেছিল গভীর হতাশার ছাপ। নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে উপস্থিত আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা তার নাম ধরে স্লোগান দিলেও নীরবে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অনেকের ধারণা, বিশ্বকাপের মঞ্চে সমর্থকদের এমন ভালোবাসা হয়তো শেষবারের মতোই অনুভব করলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। কথা বলতে বলতেই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে চলে যান এই কোচ।
ফাইনালে মেসির প্রভাব ছিল সীমিত
৩৯ বছর বয়সেও পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিলেও ফাইনালে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি মেসিকে। ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক ও শারীরিক নির্ভর কৌশল দলটির সবচেয়ে বড় তারকাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পুরো ম্যাচে তিনি প্রয়োজনীয় বলই পাননি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিকবার নিজের খেলার ধরন বদলে সফল হওয়া মেসি এবারও অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দলের কৌশলগত সীমাবদ্ধতা তার প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেয়নি।
আর্জেন্টিনার কৌশল নিয়ে প্রশ্ন
ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন নিয়ে ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আক্রমণ গড়ার চেয়ে শারীরিক লড়াই ও প্রতিপক্ষকে থামানোর দিকেই বেশি মনোযোগী ছিল স্কালোনির দল।
ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে কঠোর ফাউল, উত্তেজনা এবং রেফারিং নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারের আচরণও সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে এনজো ফার্নান্দেজের অপ্রয়োজনীয় আক্রমণাত্মক আচরণ এবং পরবর্তীতে লেয়ান্দ্রো পারেদেসের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলো দলটির হতাশারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইতিহাসে নেতিবাচক রেকর্ড
বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে স্পেন যেখানে ১২টি অন-টার্গেট শট নেয়, সেখানে আর্জেন্টিনার অন-টার্গেট শট ছিল শূন্য।
প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে আর্জেন্টিনা যতটি সফল পাস দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি ফাউল করেছে—যা দলটির কৌশলগত দুর্বলতার স্পষ্ট প্রতিফলন।
শেষ বিশ্বকাপের ইঙ্গিত?
ম্যাচ শেষে মেসিকে সতীর্থদের সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। ফুটবলবিশ্বে এখন জোর আলোচনা, এটিই হয়তো বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ।
যদিও ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির সামনে পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শিরোপা জিততে না পারলেও ফুটবল ইতিহাসে লিওনেল মেসির অবস্থান যে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অমলিন থাকবে, সে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই।