ফিফার মেগা প্রাইজমানি: চ্যাম্পিয়নদের জন্য রেকর্ড ৬১৬ কোটি টাকার লোভনীয় হাতছানি!

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। দল, ম্যাচ ও আয়োজক শহরের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এবার রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানিও ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী রোববারের ফাইনালের মাধ্যমে শেষ হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্থ।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো জানিয়েছিলেন, এবারের আসর হবে ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয়। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজ ফান্ড নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ কত পাবে?
রোববারের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। শিরোপাজয়ী দল পাবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা)। অপরদিকে রানার্স-আপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০৬ কোটি টাকার সমান।
তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানের পুরস্কার
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয়ী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা)। আর চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৩৩ কোটি টাকা)।
অন্যান্য দলের প্রাইজমানি
কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল: ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার
রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল: ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার
রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল: ১ কোটি ১০ লাখ ডলার
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল: ৯০ লাখ ডলার
প্রস্তুতি ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত: ১৫ লাখ ডলার
অর্থাৎ, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকেই অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে।
অর্থ পাবে ফুটবল ফেডারেশন
ফিফা সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে প্রাইজমানির অর্থ হস্তান্তর করে। পরে ফেডারেশনগুলো খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্টদের জন্য বোনাস নির্ধারণ করে। অবশিষ্ট অর্থ সাধারণত ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ের বিকাশে ব্যয় করা হয়।
ফিফার আয়ও রেকর্ড
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রাজস্ব আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। চার বছরের বর্তমান অর্থনৈতিক চক্রে সংস্থাটির মোট আয় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের চক্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অতীতের তুলনায় বিশাল উল্লম্ফন
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এবার সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ডলারে। আর ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ইতালির প্রাইজমানি ছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। চার দশকের ব্যবধানে বিশ্বকাপের পুরস্কারের অঙ্ক কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রফির সঙ্গে থাকবে বিশেষ সম্মাননা
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের ২৬ জন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ পাবেন স্বর্ণপদক। রানার্স-আপ দল পাবে রৌপ্যপদক এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ব্রোঞ্জপদক।
এ ছাড়া টুর্নামেন্ট শেষে দেওয়া হবে ব্যক্তিগত পুরস্কারও। সেরা খেলোয়াড় পাবেন গোল্ডেন বল, সেরা গোলরক্ষক গোল্ডেন গ্লাভস এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা অর্জন করবেন গোল্ডেন বুট। তবে এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয় না।