বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

লিবিয়ার দ্বন্দ্ব নিরসনে মধ্যস্থতার দায়িত্বে পাকিস্তান

লিবিয়ার দ্বন্দ্ব নিরসনে মধ্যস্থতার দায়িত্বে পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

লিবিয়ার চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নীরবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ কয়েক মাস ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া কার্যত দুই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকট নিরসনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান আসেনি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবগত রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি সৌদি আরবও এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিচ্ছে। গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে লিবিয়ার উভয় পক্ষই পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা চেয়েছিল বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ার রাজনৈতিক পুনর্মিলনের জন্য বিদেশি অংশীদারদের স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখা, ক্ষমতা বণ্টন, নির্বাচন আয়োজন এবং তেলসম্পদের আয় ভাগাভাগির মতো জটিল বিষয়গুলোর সমাধান প্রয়োজন।

আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩৬ মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষমতা ভাগাভাগির কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দিবেইবাহ অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেবেন। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলীয় লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) উপ-কমান্ডার সাদ্দাম হাফতার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে পারেন।

এছাড়া এলএনএ প্রধান খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন পক্ষকে জাতীয় বাজেট ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। যদিও পুরো পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে সাদ্দাম হাফতারের বৈঠক এবং পরে তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফর এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও লিবিয়ার জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা সফল হলে শুধু লিবিয়ার সংকট সমাধানেই অগ্রগতি আসবে না, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও ইসলামাবাদের ভূমিকা নতুন মাত্রা পাবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন