ঋণখেলাপি মোনেম সুগারকে শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার অনুমতি

৬৯৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণে থাকা আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে (এএমএসআরএল) শতভাগ মার্জিনের ভিত্তিতে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারার আওতায় দেওয়া এ অনুমতি ২০২৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, শতভাগ নগদ মার্জিন জমা রাখার শর্তে যে কোনো তফসিলি ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে আমদানি এলসি খুলতে পারবে। তবে এ অনুমতির ফলে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর কোনো আর্থিক দায় বর্তাবে না এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো আর্থিক সহায়তার দাবিও গ্রহণযোগ্য হবে না।
এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটি কাঁচামালসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির সুযোগ পাবে। যেহেতু এলসির সম্পূর্ণ অর্থ আগাম মার্জিন হিসেবে জমা থাকবে, তাই ব্যাংকগুলোর ঋণঝুঁকি থাকবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউসিবি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আবদুল মোনেম লিমিটেডের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের পাওনাই প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা।
এর আগে, গত বছরের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন করে। পরে চলতি বছরের ৭ জুন শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন জানায়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অপরিশোধিত চিনি আমদানির আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সময়মতো এলসি খোলা জরুরি। তা না হলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। একই সঙ্গে দেশে সীমিতসংখ্যক চিনি শোধনাগার সচল থাকায় আমদানি ব্যাহত হলে বাজারে চিনির সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারির শোধনাগারটি ক্রয়চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালনা করছে আবুল খায়ের লিমিটেড। এখানকার উৎপাদিত চিনি ‘স্টারশিপ সুগার’ ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করা হচ্ছে।