যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন, তবু আশাবাদী গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন সহজ নয়, তবে তা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, যেকোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল করতে হলে যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত কৌশলগত অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানের ফাঁকে হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ দারবিশের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন গালিবাফ।
তিনি বলেন, প্রতিরোধ বাহিনীর অর্জন সংরক্ষণ ও আরও সুসংহত রেখে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সামরিক অচলাবস্থার সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রস্তুত রাখাও জরুরি।
গালিবাফ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সময় ইসরায়েলের বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়াহ এলাকায় হামলার ঘটনায় আলোচনা জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সে সময় তেহরান স্পষ্টভাবে জানায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা বন্ধের বিষয়টি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শর্ত পরবর্তীতে সমঝোতা স্মারকে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সেই সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এটি কঠিন হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব।
প্রায় তিন সপ্তাহের সংঘাতের পর ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে ইসলামাবাদে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে বৈরিতা কমানো, হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ধাপে ধাপে বন্ধ করার রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও কূটনীতিকরা এতে অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
সরকারি সূচি অনুযায়ী, তেহরানে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মূল জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ধর্মীয় নগরী কোমে বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
পরবর্তী ধাপে ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সবশেষে ৯ জুলাই ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।