বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

খামেনির প্রথম জানাজা আজ, মানুষের ঢলে ভরে গেছে গ্র্যান্ড মোসাল্লা

খামেনির প্রথম জানাজা আজ, মানুষের ঢলে ভরে গেছে গ্র্যান্ড মোসাল্লা
ছবি- সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের প্রথম জানাজা আজ (রোববার) অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এতে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হতে পারে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, শনিবার থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। জানাজার নামাজ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রধান চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম জানাজার পর সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে মরদেহ ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে নেওয়া হবে। পরে বৃহস্পতিবার দাফনের জন্য মরদেহ আবার ইরানের মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে।

কে ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি?

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইসলামী বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশল শক্তিশালী করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।

১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। পরে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।

তার নেতৃত্বে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভ তার শাসনামলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। পরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন।


সূত্র: আল জাজিরা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন