বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

খামেনির জানাজা বয়কটে দেশগুলোকে চাপ দিয়েছে ওয়াশিংটন

খামেনির জানাজা বয়কটে দেশগুলোকে চাপ দিয়েছে ওয়াশিংটন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, বিভিন্ন দেশকে জানাজায় অংশ না নিতে গত কয়েক দিনে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে ওয়াশিংটন।

তাসনিম এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এ প্রচারণায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা সম্পৃক্ত ছিলেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোনো দেশ সরকারি প্রতিনিধিদল পাঠালে উন্নয়ন সহায়তা কমিয়ে দেওয়া, স্থগিত রাখা কিংবা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তাসনিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন মার্কো রুবিও একটি গোপন নির্দেশনা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাসকে স্বাগতিক দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের নির্দেশ দেন। সেখানে খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ‘অবন্ধুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আরব কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রুবিও ব্যক্তিগতভাবে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিদল না পাঠানোর আহ্বান জানান।

এছাড়া আফ্রিকার কয়েকটি দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে উন্নয়ন সহায়তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন বলে তাসনিমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এ চাপের কারণে অন্তত ১৩টি দেশ শেষ পর্যন্ত জানাজায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। এসব দেশের মধ্যে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি রাষ্ট্র রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ১০০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি জানাজায় অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তাসনিম। তাদের মতে, এটি খামেনির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্মান এবং মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সীমিত সফলতার প্রতিফলন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে তেহরানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হবে। পরে তাকে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজারসংলগ্ন এলাকায় দাফন করা হবে।

এদিকে জানাজার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির দাবি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে এসব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন