মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

সম্পদের প্রবৃদ্ধির আড়ালে বৈষম্যের বিস্তার, বলছে ইউবিএস

সম্পদের প্রবৃদ্ধির আড়ালে বৈষম্যের বিস্তার, বলছে ইউবিএস
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বিশ্বজুড়ে সম্পদশালী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএসের সর্বশেষ গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বে প্রায় ১০ লাখ নতুন মিলিয়নেয়ার (কমপক্ষে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক) যুক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো বৈশ্বিক ব্যক্তিগত সম্পদ বেড়েছে। এ সময়ে মোট ব্যক্তিগত সম্পদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগের দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সহ-প্রধান ইকবাল খান বলেন, অর্থনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিভিন্ন বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নতুন মিলিয়নেয়ারদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। তবে বৈশ্বিক সম্পদ বাড়লেও অধিকাংশ দেশে মিডিয়ান ওয়েলথ বা মধ্যক সম্পদের পরিমাণ কমেছে, যা সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার তুলনামূলক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

মধ্যক সম্পদের দিক থেকে লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামের পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটিতে জনপ্রতি মধ্যক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার

অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিবিদ সল এসলেক বলেন, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান বাড়লেও অন্য অনেক দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ বণ্টন তুলনামূলকভাবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ।

বাড়ির মূল্য বৃদ্ধিতেই বেড়েছে সম্পদ

ইউবিএস জানিয়েছে, অধিকাংশ নতুন মিলিয়নেয়ারের সম্পদ বৃদ্ধির প্রধান কারণ নগদ অর্থ নয়, বরং আবাসিক সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি। ফলে সম্পদের হিসাব বাড়লেও সবার হাতে অতিরিক্ত ব্যয়যোগ্য অর্থ আসেনি।

প্রতিবেদন বলছে, সম্পত্তি বিক্রি না করা পর্যন্ত সেই সম্পদের আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় সুদের হার বৃদ্ধি ও করনীতির পরিবর্তনের কারণে আবাসন বাজারে ধীরগতির আভাসও মিলছে।

সম্পদ বৈষম্যে এগিয়ে আমিরাত, রাশিয়া

প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক বৈষম্য পরিমাপের সূচক জিনি কোএফিশিয়েন্ট-এর বিশ্লেষণও তুলে ধরা হয়েছে। এই সূচকে শূন্য মানে সম্পদের সমবণ্টন এবং এক মানে সব সম্পদ একজনের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকা বোঝায়।

অস্ট্রেলিয়ার জিনি স্কোর ০.৫৩, যা আগের বছরের ০.৫৫ থেকে কিছুটা কমেছে। অর্থাৎ দেশটিতে বৈষম্য সামান্য হ্রাস পেয়েছে।

ইউবিএসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে কম সম্পদ বৈষম্যের দেশ স্লোভাকিয়া, আর সবচেয়ে বেশি বৈষম্য রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়

প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে, কোনো দেশ একই সঙ্গে ধনী এবং বৈষম্যপূর্ণ হতে পারে, আবার অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েও তুলনামূলক সমতাপূর্ণ সম্পদ বণ্টন বজায় রাখতে পারে। তাই সম্পদের পরিমাণের পাশাপাশি তার বণ্টনও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।


সূত্র : এসবিএস নিউজ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন