আদ্-দ্বীন হাসপাতাল সংকট: অনিশ্চয়তার মুখে বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেখানে অধ্যয়নরত বিদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল বিদেশি শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, চলমান সংকটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানাতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
তবে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, মহাপরিচালক গুরুত্বপূর্ণ কাজে কার্যালয়ের বাইরে ছিলেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা আগে থেকে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
অন্য কোনো কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে ধরনের কোনো সম্ভাবনাও নেই।
বিদেশি শিক্ষার্থীরা বলছেন, হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের পড়াশোনা এবং পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ডা. খুজাইমা বলেন,
“আমরা আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে খুবই বিপাকে আছি। বিষয়টির সমাধানের জন্য দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সাড়া পাইনি। যদি আমাদের কথা কেউ না শোনে, তাহলে আমরা আরও বড় সমস্যার মুখে পড়ব।”
ভারতের কাশ্মীর থেকে এসে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ডা. রেজা বলেন,
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশনের সুযোগ পেতে পারে। কিন্তু বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি এত সহজ নয়। আমাদের নির্ধারিত কারিকুলাম অনুযায়ী এখান থেকেই পড়াশোনা শেষ করতে হবে। আমি আট বছর ধরে এখানে আছি এবং পড়াশোনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন যদি এটি আটকে যায়, তাহলে আমার ডিগ্রির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।”
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে মোট ২৯৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৮৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং ২০৯ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী।
তাদের অধিকাংশই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে এসে চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়ন করছেন।
শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তাদের একাডেমিক অগ্রগতি, ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা এবং ডিগ্রি অর্জনের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।