বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

এপস্টেইন আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল: বিস্ফোরক দাবি বিল গেটসের

এপস্টেইন আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল: বিস্ফোরক দাবি বিল গেটসের
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস দাবি করেছেন, বিতর্কিত মার্কিন অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস) একটি কমিটির কাছে দেওয়া প্রস্তুতকৃত বিবৃতিতে তিনি এই দাবি করেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি রুদ্ধদ্বার শুনানিতে এপস্টেইনের সঙ্গে অতীত যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিল গেটস। শুনানির আয়োজন করে কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটি, যারা এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্ত এবং বিচার বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে।

বিল গেটস তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, এপস্টেইন তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও তাতে সফল হতে পারেননি।

তিনি বলেন,
"এপস্টেইন তার উদ্দেশ্য পূরণে আমার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল। তবে সে সফল হয়নি। এখন মনে হয়, তার সঙ্গে কখনোই আমার দেখা করা উচিত হয়নি।"

গেটস এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগকে নিজের জীবনের একটি বড় ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একজন দাতব্যকর্মী হিসেবে মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত সুনাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক তাঁর সেই অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল।

তিনি আরও জানান, এপস্টেইনের কর্মকাণ্ড ও জীবনযাপন তাঁর মানবকল্যাণমূলক কাজের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।

জানা গেছে, ২০১১ সালে বিল গেটস ও জেফরি এপস্টেইনের মধ্যে পরিচয় হয়। যদিও এর আগেই, ২০০৮ সালে, এক অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন শোষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এপস্টেইন।

গেটস স্বীকার করেন যে তিনি এপস্টেইনের আইনি সমস্যার বিষয়ে জানতেন, তবে অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভয়াবহতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না।

"যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই আমি সেই পরিচয় গ্রহণ করেছিলাম, যা পরবর্তীতে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে," বলেন তিনি।

২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে গেটস ও এপস্টেইনের মধ্যে কয়েকবার বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে মূলত একটি দাতব্য তহবিল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা যায়।

তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি কখনো বাস্তবায়িত হয়নি এবং ২০১৪ সালের পর থেকে তাদের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

গেটস জানান, পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন নথি ও তথ্য থেকে তিনি জানতে পারেন, এপস্টেইন তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন।

তার ভাষায়, এপস্টেইন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলোকে কাজে লাগিয়ে চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছিল।

২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার হওয়ার পর এপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের পূর্ববর্তী যোগাযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। একই বছরের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে রহস্যজনকভাবে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়।

বর্তমানে হাউস ওভারসাইট কমিটি এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিস্তৃত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিল গেটসের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে নতুন প্রশ্ন এবং আলোচনার জন্ম দিতে পারে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন