মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং কারগান এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর আওতায় তেলবাহী ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও বন্ধ থাকবে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা।
পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। ইরানের দাবি, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক এবং বন্দর আব্বাস বন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এসব হামলায় পানির অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারে নতুন শঙ্কা
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।