বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

তৃণমূলের সামনে নতুন সংকট, চাপে মমতা ব্যানার্জি

তৃণমূলের সামনে নতুন সংকট, চাপে মমতা ব্যানার্জি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র বিশ দিন পেরিয়েছে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ক্ষমতা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অপসারণ হয়েছে। এর মধ্যেই দলটির মূল সাংগঠনিক কার্যালয় বা কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাদের উঠে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাড়িটির মালিক। মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ভবনটির মালিকের আচমকা অবস্থান বদলে হতবাক তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।

তৃণমূল কংগ্রেসের মূল সাংগঠনিক কার্যালয় ছিল মূলত ‘তৃণমূল ভবন’। এটি অবস্থিত কলকাতা ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের ধারে তোপসিয়া এলাকায়। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে যখন তৃণমূলের জন্ম হয়, তখন দলের আর্থিক অবস্থা তেমন পোক্ত ছিল না। চার বছর পর, অর্থাৎ ২০০২ সালে তপসিয়ায় যে দপ্তরটি তৈরি হয়েছিল, তা ছিল নেহাতই কাজ চালানোর মতো।

২০২২ সালে পুরোনো ভবন ভেঙে ঝা চকচকে আধুনিক দলীয় কার্যালয় বানানোর কাজ শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস। নকশা অনুযায়ী, প্রায় ৮৪৩ বর্গমিটার জমির ওপর জি প্লাস ফাইভ অর্থাৎ ছয়তলা এই অত্যাধুনিক ভবনের সুপার স্ট্রাকচার বা মূল কাঠামোটি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। ২০.৩৫ মিটার উঁচু এই ভবনের প্রতি তলায় রয়েছে ৩২৫.২০ বর্গমিটার কভার্ড স্পেস।

সঙ্গে রাখা হয়েছিল ৩০টি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ২১৯.৫২ বর্গমিটার জায়গা এবং ছাদে বিশালাকার জলাধার। ছাব্বিশের ভোটের আগে পর্যন্ত দিনরাত এক করে জোরকদমে কাজ চললেও, ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই সেখানে এখন শ্মশানের নীরবতা, কাজের গতি কার্যত মন্থর।

এদিকে নতুন দলীয় ভবন যতদিন না তৈরি হয় ততদিন দলের কার্যক্রম চালানোর জন্য বাইপাস এলাকার একটি বহুতল ভাড়া নিয়েছিল তৃণমূল৷ যে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী রাজ্য দপ্তর হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছিল৷ সম্প্রতি, সেটি ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাড়ির মালিক৷ দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দেয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন বাড়ির মালিক মন্টু সাহা।

রাজ্যের অন্যতম নামকরা ডেকরেটার্স সংস্থা মডার্ন ডেকর্টর্সের কর্ণধার মন্টু সাহা৷ কিন্তু কেন রাজ্যে পালাবদলের পরই তৃণমূলকে বাড়ি ছাড়তে বললেন তিনি? তিনি বলেন, ‘৪ তারিখ ভোটের ফল প্রকাশের পরই আমার ওই বাড়ি বাইরে থেকে ভাঙচুর করা হয়৷ বাড়িটার ক্ষতি হলে তো আমারই ক্ষতি হবে৷ এর মধ্যে অন্য কোনো বিষয় নেই৷’

তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রথমে ২ বছরের চুক্তিতে ওই বাড়ি ভাড়া নেয় তৃণমূল৷ পরে আরও ২ বছরের জন্য চুক্তিবৃদ্ধি করা হয়৷ এখনও পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্ব বাড়ি ভাড়া বাবদ তার সব পাওনাই মিটিয়েছে বলেও দাবি মন্টু সাহার।

মেট্রোপলিটনের এই তৃণমূল ভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আলাদা ঘর ছিল৷ সাংবাদিক বৈঠকের জন্যও দলের প্রথমসারির অনেক নেতাই নিয়মিত এই কার্যালয়ে আসতেন৷ তবে এই বাড়ি মূলত আগলে রাখতেন দলের সভাপতি সুব্রত বক্সি এবং রাজ্যের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার।

এদিকে অস্থায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের এই দলীয় কার্যালয়টি উঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় খুশি অস্থায়ী তৃণমূল কংগ্রেস ভবনের বিপরীত দিকের বাড়ির বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, গত চার বছর ধরে বাড়ির জানলা বন্ধ করে রাখতে হতো তাদের। কারণ, বাড়ির সামনে মস্ত হোর্ডিং লাগানো ছিল। যার ফলে আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা ছিল না।

আরও অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এলেই বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হতো না। বাড়ির গেট আটকে রাখা হতো নানা সময়ে। অভিযোগ জানাতে গেলে দেয়া হতো হুমকি। এবার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় সরছে জেনে খুশি তারা।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন