১১২৮ কোটি টাকার ক্ষতিতে বিপর্যস্ত হাওরের কৃষক

হাওরে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকার ধান ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় ঈদের পর থেকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে।
এদিকে, হাওরে ফসলহানির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাজারগুলোতে। খুচরায় না বাড়লেও, পাইকারি বাজারে চালের দাম বস্তা প্রতি বেড়েছে ১০০ টাকার বেশি।
চাল উৎপাদনের প্রধান মৌসুম বোরো। কিন্তু মৌসুমের মাঝখানে ডিজেলসংকটে সেচ বিঘ্নিত হওয়া এবং শেষ দিকে বৃষ্টি ও ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, সম্প্রতি অতি বৃষ্টির কারণে হাওরের জেলাগুলোতে ৪৯ হাজার হেক্টর ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। চালের ক্ষতি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪০৬ টন। টাকার অংকে যা ১১শ কোটি টাকার বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, চালের ক্ষতি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪০৬ টন। টাকার হিসাবে ক্ষতি ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকার।
হাওরে ফসলহানির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। আগামী সপ্তাহেই ঈদ, এরই মধ্যে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে চালের বাজার। গত কয়েকদিন ধরে চালের আড়তে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত। এতে দুশ্চিন্তা বেড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষের। বাড়তি দামের জন্য বৈরি আবহাওয়া আর মিল সিন্ডিকেটকে দুষছেন বিক্রেতারা।
এদিকে, হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ কৃষককে বিশেষ সহয়তার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, আর্থিক সহয়তার পাশাপাশি ফসলের বিমা এবং কৃষি ঋণ সহজ করতে নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।