সীমান্তের তিন গ্রামে শোকের মাতম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুইজন নিহত হওয়ার পর সীমান্তঘেঁষা তিনটি গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোক। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। আহত কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন স্বজনরা।
গত শুক্রবার গভীর রাতে কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ধ্বজনগর গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন এবং মানিক্যমুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন। শনিবার বিকেলে মরদেহ দেশে আনার পর রাতে নিজ নিজ গ্রামে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নবীর হোসেনের মা জাহেরা বেগম ছেলেকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। আর কলেজপড়ুয়া মোরছালিনের বাবা হেবজু মিয়া নীরবে বসে ছিলেন ছেলের কবরের পাশে। সহপাঠী ও এলাকাবাসী কবর জিয়ারত করতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
হেবজু মিয়ার দাবি, শুক্রবার রাতে পাশের বাড়ির কয়েকজন যুবক তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তিনি জানতে পারেন, সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনায় তার ছেলে নিহত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান সক্রিয়। সহজ আয়ের আশায় অনেক তরুণ ঝুঁকি নিয়ে এসব কাজে জড়িয়ে পড়ছে। ধ্বজনগরের বাসিন্দা রিনা বেগম বলেন, বড় চোরাকারবারিরা নিজেদের আড়ালে রেখে তরুণদের সীমান্তে পাঠায়, আর প্রাণহানির শিকার হয় সাধারণ মানুষ।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে ধ্বজনগরের মুক্তার হোসেন, পাথরিয়াদ্বার গ্রামের জুবায়ের হোসেন বাবু এবং মানিক্যমুড়ি গ্রামের বাহার উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার রাতের পর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগও নেই বলে জানান স্বজনরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধ্বজনগর, পাথরিয়াদ্বার ও মানিক্যমুড়ি সীমান্তপথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ আনা-নেওয়া চলে আসছে। শুক্রবার রাতেও কয়েকটি দল সীমান্তে গিয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
ঘটনার পর রোববার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে মালু মিয়া (৩৮) ও মনির হোসেন (৩৫) নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।