ঢাবিতে ড. ইউনূসের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার দাবি করেছে ছাত্রসংগঠন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। একই সঙ্গে দেশে হামের বিস্তারকে ‘মহামারি’ ঘোষণা করে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা শিশুদের প্রতীকী মরদেহ বহন করে প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সাবেক প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি ও বিচার দাবি করেন তারা।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য। অথচ আজ সেই শিশুরাই হামের মতো সংকটে প্রাণ হারাচ্ছে। এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং মানবসৃষ্ট বিপর্যয়।’
তিনি আরও বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নীরব ভূমিকা পালন করছে। তার দাবি, হাম পরিস্থিতি কিংবা আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো বিষয়ে সংসদে কার্যকর আলোচনা দেখা যায় না।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘শুধু মুনাফার চিন্তা করে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই অবহেলার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি জানান, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে অবিলম্বে হামকে মহামারি ঘোষণা করে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
জুবেল আরও অভিযোগ করেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি, বর্তমান সময়েও তেমন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আরও কত প্রাণহানি ঘটবে সেটিই শুধু দেখার অপেক্ষা চলছে।’
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অস্থায়ী হাম চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপনে আপত্তি জানানোয় ডাকসু নেতাদেরও সমালোচনা করা হয়।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি নুজিয়া হাসান রাশা বলেন, বর্তমান সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব ব্যক্তি এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘সংস্কারের নামে মুহাম্মদ ইউনূস কেবল নিজের ঋণ মওকুফ করেছেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে চলে গেছেন।’
সরকার ও বিরোধী দলের সমালোচনা করে নুজিয়া বলেন, ‘দেশের শিশুরা মারা যাচ্ছে, অথচ এ বিষয়ে কারও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শতাধিক শিশু হাসপাতালে মারা গেছে। অথচ সে সময় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিদেশ সফরে ব্যস্ত ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।