সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

বাজার মূলধন কমেছে তিন হাজার কোটি টাকা

বাজার মূলধন কমেছে তিন হাজার কোটি টাকা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা ইতিবাচক ধারা দেখা গেলেও তা স্থায়ী হবে কিনা—এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও সূচকে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায়নি। একই সময়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে চাপ থাকায় বাজার মূলধন কমেছে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে সূচক স্থির থাকলেও দৈনিক গড় লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহ শেষে ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস সামান্য বেড়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানি ও আর্থিক পণ্যের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২১৩টির দর বেড়েছে, ১৪২টির কমেছে এবং ৩৫টির অপরিবর্তিত ছিল। ২২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি। সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মার শেয়ার।

এ সময়ে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা।

তবে লেনদেনে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে ৮১৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬৭০ কোটি টাকা। এতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর প্রতি আগ্রহ ও ভালো আয়ের প্রত্যাশা বাজারকে কিছুটা সহায়তা করেছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বড় মূলধনি শেয়ারে বিক্রয় চাপ বাজারকে আবারও স্থবির করে দেয়।

বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে করপোরেট আয়ের ঘোষণা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকেই নজর রাখছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অংশ নিয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং খাত (১৭.২%), এরপর ওষুধ ও রসায়ন (১১.৬%), সাধারণ বীমা (১০.৩%), বস্ত্র (৯.১%) এবং ব্যাংক খাত (৯%)।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সিটি ব্যাংক, একমি পেস্টিসাইডসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ