আর্টেমিস-২ মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন নাসার চার নভোচারী

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার চন্দ্রাভিযান ‘আর্টেমিস-২’ সফলভাবে সম্পন্ন করে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন চার নভোচারী। দশ দিনের অভিযান শেষে তারা নিরাপদে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে অবতরণ করেন।
গত ১০ এপ্রিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের উপকূলে নাসার ওরিয়ন ক্যাপসুলটি স্প্ল্যাশডাউন করে। অবতরণের কিছুক্ষণ পর নাসার উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় ক্যাপসুল থেকে বেরিয়ে আসেন রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।
এর আগে ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে আর্টেমিস-২। মিশনটি পৃথিবীর দুইটি কক্ষপথ প্রদক্ষিণের পাশাপাশি চাঁদের পাশ দিয়ে ফ্লাইবাই সম্পন্ন করে মোট ১১ লাখ ১৭ হাজার ৫১৫ কিলোমিটার এবং প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার মাইল অতিক্রম করে।
ফ্লাইবাই চলাকালে মহাকাশযানটি চাঁদের খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেও কোনো কক্ষপথে প্রবেশ করেনি। নাসা জানিয়েছে, এই ধরনের উড্ডয়ন ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। প্রবল ঘর্ষণে ক্যাপসুলটি আগুনের গোলকের মতো হয়ে ওঠে এবং সাময়িকভাবে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অবতরণের পর উদ্ধারকারী দল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সময় অপেক্ষা করে।
তবে নাসা নিশ্চিত করেছে, ক্যাপসুলের ভেতরের পরিবেশ সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল এবং চারজন নভোচারীই সুস্থ আছেন। অবতরণের দৃশ্য নাসার ইউটিউব চ্যানেলে ৩০ লাখেরও বেশি দর্শক প্রত্যক্ষ করেন।
উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীও সহায়তা করে। নাসা কর্মকর্তাদের মতে, নভোচারীরা শুক্রবার রাত নৌবাহিনীর জাহাজে কাটান এবং শনিবার টেক্সাসের হিউস্টনে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন।
নাসার ইতিহাসে চাঁদে প্রথম মানব অভিযান শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকে, যার সফল পরিণতি আসে ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনের মাধ্যমে। সর্বশেষ মানববিহীন চন্দ্রযাত্রা ছিল ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩।
দীর্ঘ বিরতির পর নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে পুনরায় মানবচন্দ্রাভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আর্টেমিস-২ সেই কর্মসূচিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক মিশন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই মিশনের মাধ্যমে অ্যাপোলো-১৩-এর ২ লাখ ৪৮ হাজার মাইল দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে আর্টেমিস-২ মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়ে।
এছাড়া নাসার চন্দ্রাভিযানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মিশনে একজন নারী নভোচারী (ক্রিস্টিনা কোচ) এবং একজন বিদেশি কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী (কানাডার জেরেমি হ্যানসেন) অংশ নেন।
মিশন শেষে কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান রেডিও বার্তায় বলেন, “আমরা চাঁদের দারুণ একটি দৃশ্য দেখেছি। মনে হচ্ছে আমাদের সত্যিই ফিরে যেতে হবে।”
দৈএনকে/জে, আ