বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লাস মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে সালাহউদ্দিন-এ্যানি বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের বিরুদ্ধে জাল বিল-ভাউচার ও দুর্নীতির অভিযোগ হাসানের ছোবলে অস্ট্রেলিয়া বিধ্বস্ত, ডারউইনে রূপকথার শুরু
  • আলোচনার আগে ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সতর্ক বার্তা

    আলোচনার আগে ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সতর্ক বার্তা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তারা এটাও স্বীকার করেছে যে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের ওপর আস্থার কথা জানান। তবে আলোচনার ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত—এমন কোনো আভাস দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি।  

    ট্রাম্প বলেন, “দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। সেখানে জেডি (ভ্যান্স), স্টিভ এবং জ্যারেড আছে। আমাদের একটি দক্ষ দল রয়েছে এবং আগামীকাল তারা বৈঠকে বসছে। আমরা দেখব সব কেমন চলছে।” মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং শীর্ষ উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলের কথা উল্লেখ করে তিনি এসব বলেন।

    একই সময়ে ট্রাম্প এই আলোচনাকে স্পষ্টভাবে কৌশলগত এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও কৌশলগত পয়েন্টগুলোর সঙ্গে জড়িত অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত এই আলোচনার ফলাফল নির্ধারণ করবে। 

    ট্রাম্প বলেন, “প্রণালিটি (হরমুজ) খুলে যাবে। আমরা যদি কেবল এটি ছেড়ে দিই, তবে এটি এমনিতেই খুলবে।” যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা এই প্রণালি ব্যবহার করি না... অন্যান্য দেশগুলো এ কাজে এগিয়ে আসবে।”

    কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা (ব্যাকআপ প্ল্যান) আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “এটি সহজ হবে না... তবে আমরা খুব দ্রুতই পথটি খুলে দিতে পারব।” বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, “কোনো ব্যাকআপ প্ল্যানের প্রয়োজন নেই।”

    ট্রাম্পের এসব মন্তব্য তার আত্মবিশ্বাস এবং অনিশ্চয়তা—উভয়ের সংমিশ্রণকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি আলোচনার কলাকৌশল বা প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিতভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখলেও এর চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে যাওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কণ্ঠে ছিল প্রথাগত কূটনীতির সুর। তিনি এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ যাতে কোনো ধরনের কারসাজি বা চতুরতার আশ্রয় নিতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।   

    ভ্যান্স বলেন, আলোচনা ‘ইতিবাচক হতে যাচ্ছে’। তবে তেহরানকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন আমাদের সঙ্গে ‘চতুরতা করার চেষ্টা’ না করে। উভয় পক্ষ একই আলোচনার টেবিলে বসলেও তাদের মধ্যে যে গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে, ভ্যান্সের এই মন্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

    এমন এক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান নিজেকে কেবল প্রভাব বিস্তারকারী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়, বরং একটি ‘সহায়ক প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দেশটি মূলত আলোচনার দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।   

    এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ বর্তমান অবস্থাকে একটি ‘কূটনৈতিক প্রচেষ্টার’ ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয় অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, বিশেষ করে একটি নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই বিষয়গুলো আজকের এই ইতিবাচক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।” এই সাফল্যের জন্য তিনি পাকিস্তানের পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামাবাদের এই ভূমিকা একটি বৃহত্তর বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টারই অংশ। রিজওয়ান সাঈদ শেখ বলেন, “তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিসরের মতো একাধিক দেশ এক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আরও অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”

    প্রতিনিধি দলগুলো পৌঁছাতে শুরু করায় তিনি জানান, “আলোচনা এখন একেবারেই চূড়ান্ত পর্যায়ে।” তার এই মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, মূল সংলাপে বসার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ভিত্তি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে।

    আলোচনায় অগ্রগতির মূল শর্ত হিসেবে তিনি প্রারম্ভিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনার অনানুষ্ঠানিক সমঝোতাগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “সংলাপ শুরুর আগে আলোচনায় যেসব বিষয় স্থান পেয়েছে, সেগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি। এটি কেবল আলোচনার বাহ্যিক পরিবেশই নয়, বরং মূল আলোচনার বিষয়বস্তুর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আলোচনা শুরু হওয়ার পর দুই পক্ষের আচরণের ধরন এবং আলাপ-আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটিই হবে এই সফলতার আসল পরীক্ষা।” 

    তিনি বলেন, ইসলামাবাদে যে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উভয় পক্ষের গঠনমূলক মনোভাব। তিনি মনে করেন, আলোচনার মূল বিষয়ের চেয়েও দুই পক্ষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই তাৎক্ষণিক সাফল্যের চাবিকাঠি হবে।

    আলোচনাটিকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান কাজ (ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস)। যদি কোনো বিষয়ে সামান্য পরিবর্তন বা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, তবে আলোচনার মাধ্যমেই সেই সমস্যার সমাধান করা হবে।  


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন