রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • একা সিটি করপোরেশনের পক্ষে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: আবদুস সালাম ২ মে সিলেট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্যামলীতে হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগ, রাতেই ছুটে গেলেন যুবদল নেতারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের ধারণা মুছে দেব: বাণিজ্যমন্ত্রী সাংস্কৃতিক বিনিময় দুই দেশের মৈত্রীকে আরও সুদৃঢ় করবে: ভারতীয় হাইকমিশনার বিমানবন্দরে অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায় স্থানান্তর সবজির বাজারে ক্রেতাদের দীর্ঘশ্বাস: ১০০ টাকার নিচে মিলছে না কিছুই চট্টগ্রামে শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, পাঁচ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ শনিবার থেকে অকার্যকর আ.লীগসহ বাংলাদেশে কখন কোন কোন দল নিষিদ্ধ হয়েছিল
  • ব্যাংক খাতে ভর করে পতন এড়াল পুঁজিবাজার

    ব্যাংক খাতে ভর করে পতন এড়াল পুঁজিবাজার
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক নিম্নমুখিতা কাটিয়ে বিদায়ী সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। এই খাতের ইতিবাচক পারফরম্যান্সে সার্বিক বাজারও বড় ধরনের পতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

    গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৮ পয়েন্ট বা প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫ হাজার ২২০ পয়েন্ট। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

    সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৮৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ড লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩৮টির দাম বেড়েছে, কমেছে ২২০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির দর। এ সময়ে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং তাওফিকা ফুড অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার।

    লেনদেনেও সামান্য গতি ফিরে আসে। সপ্তাহজুড়ে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৬৬৯ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৬৬৮ কোটি টাকার তুলনায় সামান্য বেশি।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতির খবরে বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়। যদিও শেষ কার্যদিবসে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় সূচক কিছুটা কমে যায়, তবুও ব্যাংক খাতের লভ্যাংশ ঘোষণার প্রভাবে বাজার স্থিতিশীল থাকে।

    খাতভিত্তিক লেনদেনে ওষুধ ও রসায়ন খাত শীর্ষে ছিল, যা মোট লেনদেনের ১৫.৮ শতাংশ দখল করে। প্রকৌশল খাত ১৪.২ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় এবং ব্যাংক খাত ৯.৩ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল। এছাড়া বস্ত্র খাত ৯ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাত ৮.৮ শতাংশ লেনদেন দখল করে।

    রিটার্নের দিক থেকে চামড়া খাতে সর্বোচ্চ ২.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এছাড়া ব্যাংক ও কাগজ-প্রিন্টিং খাতে ১.৭ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১.৪ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ১.৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। বিপরীতে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ২.৯ শতাংশ, জীবন বীমায় ২.৮ শতাংশ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১.৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন হয়েছে।

    চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ০.৪৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৭৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে সিএসসিএক্স সূচক ০.৬৩ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

    সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে মোট ২৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ১৮৮ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৩টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৪৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির দর।

    সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার মধ্যেও ব্যাংক খাতের ইতিবাচক পারফরম্যান্স পুঁজিবাজারকে বড় ধরনের পতন থেকে রক্ষা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন