শেহবাজ শরিফ ও ট্রাম্পের ‘টুইট-ডিপ্লোম্যাসি’: পর্দার আড়ালে অন্য কেউ?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় এনেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি এক্স-পোস্ট এবং তার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে এবার বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ‘ফোর্বস’। সাময়িকীটির দাবি, শেহবাজ শরিফের নামে প্রকাশিত সেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি সম্ভবত তিনি নিজে লেখেননি, এমনকি তা পাকিস্তান থেকেও লেখা হয়নি।
গত মঙ্গলবার ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে একটি বার্তা পোস্ট করেন শেহবাজ শরিফ। সেখানে তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে অগ্রসর হচ্ছে। এই তৎপরতাকে অর্থবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানোর বিনীত অনুরোধ করছি।”
বিস্ময়করভাবে, এই বার্তা পাঠানোর কিছু সময় পরেই ট্রাম্প ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। আপাতদৃষ্টিতে একে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য মনে করা হলেও, ফোর্বসের প্রকাশিত একটি ‘খসড়া অনুলিপি’ বিতর্কের দাবানল জ্বালিয়ে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ এবং ‘ড্রপ সাইট সাবস্ট্যাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ফোর্বসকে জানিয়েছেন, পোস্টটির ভাষা ও কিছু প্রযুক্তিগত চিহ্ন নির্দেশ করছে যে এটি শরিফ বা তাঁর পাকিস্তানি কর্মীরা লেখেননি।
- নামকরণে অসংগতি: এক্স-পোস্টে শেহবাজ শরিফের নামের নিচে @সিএমশেহবাজ লেখা ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব কর্মীরা তাকে কখনো এই নামে সম্বোধন করেন না।
- লোকেশন ও ড্রাফট রহস্য: ফোর্বসের হাতে আসা খসড়া অনুলিপিটি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন, এই পোস্টটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো পক্ষ লিখে দিয়েছে, যা কেবল শেহবাজের হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর দাবি ওঠার পর ফোর্বসের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে—তবে কি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চালটি পাকিস্তানের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে?
দৈএনকে/জে, আ