বিদ্যুৎকেন্দ্র সুরক্ষায় প্রতীকী মানবশৃঙ্খল গড়ছে ইরান

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে দেওয়া শেষ ডেডলাইন দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছে, এই সময়সীমা না মানলে ইরানের বিদ্যুৎসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হবে।
এর উত্তরে ইরান নতুন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। দেশটির সরকার দেশব্যাপী তরুণ, শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের প্রতি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর চারপাশে প্রতীকী ‘মানবশৃঙ্খল’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। ইরানের যুব বিষয়ক উপমন্ত্রী আলিরেজা রহিমি বলেন, “এই উদ্যোগ পুরোপুরি তরুণদের প্রস্তাবে নেয়া হয়েছে। এটি দেশের অবকাঠামো রক্ষা এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এ প্রণালী আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মার্চে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালী পুনরায় না খুলে, তবে মার্কিন সেনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। পরে তিনি সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ দিন পর্যন্ত মেয়াদ দেন। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, মঙ্গলবার রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৩টা) পর্যন্ত এটি পুনরায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “চুক্তি না হলে অবকাঠামোর ধ্বংস অল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব।”
যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। ১০ দফা শর্তে তারা স্থায়ী শান্তি চায়।
ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরাইলের তাইর দেব্বা, মারাকাহ, কিরিয়াত শমোনা ও সাসা অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটি এবং অন্যান্য সরকারি ও শিল্প স্থাপনা। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় আঘাত করেছে, যা দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদন দখল করে।
ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে পেন্টাগন এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। পাশাপাশি লেবাননের নাবাতিয়াহ ও টাইর অঞ্চলে বিমান হামলায় অন্তত ৪১টি গ্রামে মানবিক ক্ষতি ঘটেছে, বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।
এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
দৈএনকে/জে, আ