পাক-আফগান সীমান্তে শান্তি স্থাপনে চীনের ভূমিকা

চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে বৈঠকে বসেছে। ডিসেম্বরে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই প্রথমবার দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমকিতে কূটনৈতিক স্তরের বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকে দু’দেশের কূটনীতিকরা ডুরান্ড লাইনের সীমান্ত সমস্যা সমাধানসহ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কার্যকর সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চীনে অবস্থানকালে বৈঠক করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে। এরপর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে ডুরান্ড লাইনের সমস্যার সমাধানের অঙ্গীকার করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমেরা বিচ্ছিন্নতার দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদী। গত এক বছরে দু’দেশের সীমান্তে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালেবান ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নাঙ্গরহর ও পকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়। পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগানিস্তানে সক্রিয় জঙ্গিদের ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে, তবে আফগান তালেবান এ অভিযোগ উড়িয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের হত্যার অভিযোগ তুলেছে।
এরপর থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় পাক সেনা ও আফগান বাহিনীর সংঘর্ষ বেড়েছে। আফগান তালেবান প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর, আর ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে স্থল ও আকাশপথে নতুন হামলা শুরু করেছে। ২৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্তের অন্তত ৫৩টি স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
দৈএনকে/জে, আ