ইরান দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, পাইলটের অবস্থা অনিশ্চিত

ইরানি বাহিনী আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমানসহ দুটি উন্নত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন পাইলটদের একটি গোপন আস্তানাও ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মধ্য ইরানে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। বিমানটি লেকেনহিথ স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিমানটি পুরোপুরি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পাইলটের অবস্থার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শুক্রবার সকালে আইআরজিসি জানায়, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আরেকটি উন্নত যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিমানটি হেনগাম ও কেশম দ্বীপের মাঝামাঝি পারস্য উপসাগরে আছড়ে পড়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই দাবির পর যে ধ্বংসের কথা বলা হয়েছিল তা মিথ্যা, এবং তাদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কই এসব আক্রমণ পরিচালনা করেছে।
এই ঘটনার আগে গত ১১ মার্চ মধ্য ইরানের আকাশে আরেকটি এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও পরে একটি এফ-৩৫ পশ্চিম এশিয়ার ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে, তবে যুদ্ধের কারণে এটি শিগগিরই পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনী এই যুদ্ধে তিনটি এফ-১৫ ও একটি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার হারানোর কথা স্বীকার করেছে। পেন্টাগন এসব ক্ষতিগুলো ‘দুর্ঘটনা’ বা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে স্টিলথ যুদ্ধবিমান হারানোর খবর লুকানোর জন্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম নেভাদায় বিধ্বস্ত হওয়া এফ-৩৫-এর তথ্য প্রকাশ করেছে।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি