মেসি নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ, বিশ্বকাপের রণকৌশল পরীক্ষা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হলেও দেশের জ্বালানি খাত স্থিতিশীল রাখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়ছে, সর্বশেষ মালয়েশিয়া থেকে ২৭,৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে পিভিটি সোলানা নামের একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, গত এক মাসে ৩০টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে এসেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়া ৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত সব জাহাজ তেল খালাস করে নিরাপদে চলে গেছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে, যেগুলোর মধ্যে এলএনজি, গ্যাস অয়েল ও এলপিজি রয়েছে।
এর আগে ২৬ মার্চে ‘গ্রান কুভা’ নামের জাহাজ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে বন্দরে পৌঁছায়। একই দিন অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১,৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ কুতুবদিয়া উপকূলে আসে। পরদিন ইন্দোনেশিয়া থেকে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ রওনা দেওয়া জাহাজটি ৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে এলএনজি আমদানির বড় অংশ কাতার থেকে হলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়েও কাতার থেকে কিছু চালান না আসায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেল উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। ৩০ মার্চে সারাদেশে পরিচালিত অভিযানে ৮৭,৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ডিজেল ৬৭,৪০০ লিটার, অকটেন ৬৪৪ লিটার এবং পেট্রোল ১৩,৮৫৬ লিটার। দেশে বর্তমানে মোট জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে ১,৯২,৯১৯ টন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, দেশে ডিজেলের মজুদ ১,২৮,৯৩৯ টন, অকটেন ৭,৯৪০ টন, পেট্রোল ১১,৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েলের মজুদ ৪৪,৬০৯ টন। নিয়মিত আমদানি নিশ্চিত হওয়ার কারণে সরবরাহে সমস্যা নেই।
তিনি আরও জানান, দেশে অবৈধ জ্বালানি মজুদের ব্যাপকতা স্পষ্ট। সারাদেশে মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, ১৯১টি মামলা দায়ের ও ৯,০৩,৫৭০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৩,৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, ১,২৪৪টি মামলা দায়ের ও ৮,৫১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে সারাদেশে ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগরে ১১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন ও মহানগরে ৬২ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যুগ্মসচিব বলেন, ট্যাগ অফিসারদের নিবিড় তদারকির ফলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আরও বাড়বে।